ইসলামী জঙ্গীবাদীদেরকে আপনি সংসদে সাদরে বসার জায়গা করে দেবেন।তাদেরকে লালন-পালন করবেন। তাদেরকে নানাভাবে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব দেবেন। আবার ওদিকে মাঝে মধ্যে একটু আধটু তাদের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, মানে মৃদু সমালোচনা করবেন। চাই কী জঙ্গীদের রেখে যাওয়া বোমাও উদ্ধার করবেন।

দেখাতে চাইবেন আপনারা সক্রিয়। মানে বিএনপি সরকার জঙ্গী-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার। আপনারা এসব উগ্রবাদ সহ্য করেন না। দেশকে অসাম্প্রদায়িক একটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্রে বা সমাজে পরিণত করতে চাইছেন। ইত্যাদি ইত্যাদি..। কিন্তু আসলে কি তাই?

কুষ্টিয়ায় গত রবিবার (১৮ অক্টোবর রাতে) বাউল ফকির লালন শাহের মাজারের প্রবেশপথের পাশ থেকে পেট্রোলভর্তি বোতল, ধাতব পাইপসহ যেসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো একটি ‘সময় নিয়ন্ত্রিত বোমা’ বা ‘ টাইম বোমা’ র অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ অফিসাররা জানিয়েছেন, আপাতত মনে হচ্ছে-এটি “আনাড়ি হাতের কাজ হতে পারে, তবে প্রযুক্তিটা ছড়িয়ে পড়ছে—যা আমাদের সকলকে ভীষণ ঝুঁকিতে ফেলছে।” লালনকে তো জামায়াত, কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক আকিদার লোকজন একেবারেই পছন্দ করেনা।

তাদের শত্রু কিন্তু এই জাত-পাতের উর্ধ্বে ওঠা অসাম্প্রদায়িকতাকে ধারণ করা লালন ফকিরের অনুসারিরা। তো সেখানে হামলা হবে, সেটাই স্বাভাবিক।

তো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- আসলেই কি সরকার বা সরকারের ভেতরে যেসব এজেন্সি রয়েছে তারা আদৌ জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় কিনা? নাকি মাঝে মধ্যে এ ধরনের নাটক তৈরী করে দেশবাসী ও বহির্বিশ্বের কাছে নিজেদেরকে জঙ্গীবাদবিরোধী হিসেবে প্রচার করার একটি কৌশল মাত্র?

কারণ বিএনপি সংসদে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে সরকারি ক্ষমতায় রয়েছে ঠিকই। কিন্তু জাতীয় সংসদে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও তাদের বাইপ্রোডাক্ট ইসলামী জঙ্গী টোকাইয়ের দল এনসিপি ও অন্য জঙ্গীবাদী ইসলামী দলগুলোর আসন সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

এই যে আমীরে জামায়াত শফিকুর রহমান মানে ‘ সাদা শকুন’ ও ‘চুম্মা শফিক’ হিসেবে সমধিক পরিচিত তার নেতৃত্বেইতো এসব জঙ্গীবাদীদের রমরমা অবস্থা রয়েছে, এটিতো অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

কারণ বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদের শাখা-প্রশাখা ও এবং বোমাবাজি-গ্রেনেড হামলাসহ নানা জঙ্গী তৎপরতা-হামলার যেসব নিকৃষ্ট উদাহরণ রয়েছে তার সবগুলোর পেছনেই কোন না কোনভাবে ওই নাটের গুরু জামায়াতের সংযোগ রয়েছে।

জেএমবি, নব্য জেএমবি, আনসার উল্লাহ বাংলা টীম, হরকাতুল জেহাদ বা অন্য যেসব জঙ্গী দলের কথাই বীর না কেন এদের ক্যাডাররা কোন না কোন সময় জামায়াতের ছাত্র শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের কোন না কোন পর্যায়ের ক্যাডার বা সদস্য ছিলেন।

কিন্তু তাদেরকে টেকনিক্যালি শিবির থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বা তারা নিজেরাই পদত্যাগ করেছেন এমন বয়ানই দেয়া হয়েছে অতীতে। এখনো তারা তাই করে থাকে।

এই যে গত রবিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মাজারের প্রবেশপথের ডান পাশের একটি নারকেলগাছের কাছ থেকে বোমার যে ডিভাইসটি উদ্ধার করা হয় তার সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলে মেট্রো স্টেশনের নিচে গত জুলাইয়ে যে বোমাটি পাওয়া গিয়েছিল, সেটিতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।

সাংবাদিকদেরকে এমনটিই জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন। পুলিশ বলছে, একটি সন্দেহজনক ব্যাগের উপস্থিতির খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় মাজারে আগত সাধুদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের চার সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পুলিশ পরিদর্শক মোদাচ্ছের কায়সারের নেতৃত্বে দলটি তল্লাশি চালিয়ে দুটি ছোট বোতল ভরা পেট্রোল, আধা ইঞ্চি চওড়া ও চার ইঞ্চি লম্বা দুটি ধাতব ক্যানিস্টার এবং বিদ্যুতের তার যুক্ত একটি ডিভাইস উদ্ধার করে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) বোমা নিস্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, “ওটা একটা টাইম ইনিশিয়েটেড বোম্ব। ওখানে একটা টাইমার ও ব্যাটারি ছিল। “আর স্মোক বোম্ব হিসেবে পার্টিতে ব্যবহৃত সৌখিন বিস্ফোরকের অ্যালুমিনিয়াম ক্যানিস্টারের ভেতরে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে সেটিকেই বোমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে দুই বোতল পেট্রোলও রেখে দেওয়া হয়েছিল যাতে বিস্ফোরণে সেখানে একটা বড় আগুন তৈরি হয়।”

ওই কর্মকর্তা বলছেন, “আমরা ঢাকার মেট্রো স্টেশনে ছাতার মধ্যে যেরকম বোমা পেয়েছিলাম, প্রযুক্তিটা একই রকম। তবে ঢাকার মেট্রো স্টেশনের বোমার শেল (খোল) হিসেবে জিআই পাইপ ব্যবহার করা হয়েছিল, এই পাইপ বিস্ফোরিত হলে অনেক শক্তি নিয়ে স্প্লিন্টার হিসেবে চারদিকে আঘাত করে।“

আর এখানে খেলনা স্মোক বোমের অ্যালুমিনিয়াম ক্যানিস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এটা (কুষ্টিয়ার বোমা) আনাড়ি হাতের কাজ হতে পারে, তবে প্রযুক্তিটা ছড়িয়ে পড়ছে—যা আমাদের সকলকে ভীষণ ঝুঁকিতে ফেলছে।”

বোমাটি কারা সেখানে ফেলে রেখে গেছে, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো ধারণা দেয়নি। এর আগে গত ২৬ জুলাই ঢাকায় সনাতনধর্মীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর ‘পাইপ বোমা’ ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে সেটি ঘিরে রাখে এবং পরবর্তীতে তা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।

তখন পুলিশ জানিয়েছিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিদল নব্য জেএমবির সদস্য নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ ও তার অনুসারীরা মিলে ওই বোমা তৈরি করে মেট্রো স্টেশনের নিচে পেতে রেখেছিল।

পুলিশ সাভার থেকে বিপুল সরঞ্জামসহ মামুনের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তারও করে। কিন্তু মামুনকে এখন পর্যন্ত ধরা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে , গত দুই বছরে (২০২৪-২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নব্য জেএমবির বেশ কিছু বিস্ফোরক ও বোমা উদ্ধার করা হয়েছে এবং একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ঢাকার সাভার ও মতিঝিল এলাকায় বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির আস্তানা থেকে ১১টি পাইপবোমা , প্রেশার কুকার বোমা, ককটেল এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সায়ানাইড ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এর আগে ২০২৪ সালেও বিভিন্ন আস্তানা থেকে ককটেল ও আইইডি তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে নব্য জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন সদস্য ও অর্থদাতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলেন সাভার থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান, শেখ আল আমিন এবং ২০২৬ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার হওয়া চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ (যিনি নব্য জেএমবির মতাদর্শের ঘোরতর ক্যাডার ছিলেন)।

এছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও বিভিন্ন সময়ে দলটির মাঠপর্যায়ের সাইবার ও মিডিয়া শাখার সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিশেষায়িত সংস্থা সিটিটিসি (CTTC) নব্য জেএমবি’র বর্তমান তৎপরতার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে। কিন্তু সেসব তদন্তের ফলাফল কিন্তু দেশবাসী দেখতে পায়নি।

সাম্প্রতিক তদন্তগুলোতে দেখা গেছে- জঙ্গিরা যোগাযোগের জন্য প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে গিয়ে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ‘থ্রিমা’ (Threema) এবং ক্লোজড গ্রুপ ব্যবহার করছে। পুলিশের তদন্তে সাম্প্রতিক সময়ে জামিনে বা খালাস পেয়ে বেরিয়ে আসা পুরোনো বোমারু বিশেষজ্ঞদের (যেমন: নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুন) পুনরায় সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টাও উঠে এসেছে।

এদের অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে গোয়েন্দারা চেষ্টা করছেন। তবে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় যেভাবে কঠোর অবজারভেশন ও অপারেশন চালানো হতো তার এক শতাংশও হচ্ছেনা।

কারণ আমাদের এখনকার যিনি প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান তিনি নিজেই তো এসব জঙ্গীবাদের উত্থানের পেছনে প্রচুর পরিমাণ মদদ দিয়েছেন।

বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক শাসনামলে বিশেষ করে বিগত বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এদের ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের ও অত্যন্ত সংবেদনশীল।

অতীতের বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং দেশব্যাপী একযোগে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় তারেক রহমান ও তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাংশের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের মদদ দেওয়ার যে অভিযোগ রয়েছে, তা আদালতে বিচারাধীন ও রাজনৈতিক বিতর্কের একটি বড় অংশ।

সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের বিশেষায়িত শাখা সিটিটিসি (CTTC) এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নব্য জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (আনসার আল ইসলাম) এবং সামগ্রিক জঙ্গিবাদ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কিছু বক্তব্য ও বিশ্লেষণ দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকার ও পডকাস্টের আলোচনায় মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের (৫ আগস্ট, ২০২৪ পরবর্তী পরিস্থিতি) পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গোয়েন্দা নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এর পেছনে সম্ভাব্য জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা বা টার্গেট কিলিংয়ের দিকে ইঙ্গিত করেন।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে, শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা বা বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কারণ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ বছর ডিসেম্বর মাসেই দেশে ফেরার কথা বার বারই বলেছেন। তিনি যাতে ফিরতে দ্বিধা করেন এসব উটকো জঙ্গীবাদী কারণে সেজন্যও এ ধরনের কিছু ‘টাইম বোমা’ রাখা হতে পারে আতংক সৃষ্টির জন্য।

তবে আমি খেয়াল করে দেখেছি যে, বাংলাদেশে লালন, বাউল, মাজার, প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট, উদীচীসহ মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে ধারণ করে এমন সব সংগঠনের ওপর এসব জঙ্গীবাদী সংগঠনের আক্রোশ বেশি।

অতীতে সরকারি দায়িত্বে থাকাকালীন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচনায় মনিরুল ইসলাম বরাবরই দাবি করে এসেছেন যে, বাংলাদেশে নব্য জেএমবি বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতো সংগঠনগুলোর সাথে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী (আইএস বা আল-কায়েদা) সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ নেই, বরং তারা স্থানীয়ভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং দেশীয় মদদদাতাদের সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেছিলেন যে, অতীতে ছাত্রশিবির বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশের সাবেক কর্মীরা ভিন্ন নামে (যেমন নব্য জেএমবি) উগ্রবাদে জড়িয়ে এই সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে।

একইভাবে বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা আবার মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী কাদাছোঁড়াছুড়ি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে।

তবে পেশাদার তদন্ত সংস্থা ও সিটিটিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যেকোনো দল বা মতের শাসন চলুক না কেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়। যে যাই কিছু বলুক না কেন সব জঙ্গীবাদের নাটের গুরু কিন্তু একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তানী প্রেতাত্মার দল জামায়াতে ইসলামী।

# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *