কক্সবাজার: কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ডাকাতি হয়েছে। তাও পরপর দুইবার! কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে লুটপাট হয়েছে প্রায় ৫০-৬০ টা গাড়িতে!
মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বলতে কিছু আছে দেশে?
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কি বাজে অবস্থা!!
একজন ফেসবুকে লিখেছেন: “আমার বড় ভাই এই ডাকাতদল কর্তৃক অপহরণ হয়েছিল। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া ভাইয়া প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছে। অনেক অনেক দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে সবকিছুই পিস্তলের নলের ডগায় রেখে নিয়ে নিয়েছে। শুধু প্রাণ নিয়ে ফিরেই আসতে পেরেছে। ডাকাতি হয়ে প্রায় সারাদিন ব্যাপী। এই হচ্ছে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা”।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীকে লুটের পর দুপুরে একই জায়গায় একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাসহ একাধিক পথচারীর সবকিছু কেড়ে নেয় ডাকাত দল।
৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন ডাকাতদের কবলে পড়েছে বলে জানা গেছে। দিনের আলোয় এমন ঘটনায় সড়কটি ব্যবহারকারী যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় হিমছড়ি ঢালায় প্রথম ডাকাতির শিকার হন।
সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ডাকাত দল অটোরিকশাটির গতিরোধ করে তাঁকে জিম্মি করে নেয়। তাঁর মুঠোফোন, নগদ টাকা, মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা।
সব জিনিস হারিয়ে জীবষ বাঁচাতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন তারেক।
প্রথম ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে একই জায়গায় আবারও হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাত দল।
ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘মুক্তি’র ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিমসহ কয়েকজন পথচারীকে অস্ত্র দেখিয়ে মুঠোফোন ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়। তারপর দ্রুত পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায় ডাকাতেরা।
ঘটনার খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী ও বনদস্যু চক্র এ ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
