রংপুর: জামাতি, রাজাকারের শাবকরা নিজেরা স্ত্রীকে ঘরে বন্দী করে বাইরে পরকীয়া চালায়। ধর্ষণ করে, শিশু বৃদ্ধ কেউ ছাড় পায় না।
কিন্তু যুবক যুবতীদের প্রেম এরা সহ্য করতে পারে না। পারলে ঐ প্রেমিকের প্রেমিকাকেও এরা ধর্ষণ করে!
রংপুরে এমনই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। রংপুরের পীরগঞ্জে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামির নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ এনে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে সারা রাত নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হয়।
গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর মাস্টার স্থানীয় টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি।
তাঁর মেয়ে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ে। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ে দুদিয়াবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদ।
তার সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা।
কিন্তু তারা কেউ নিশ্চিত নয় প্রেম নিয়ে। আর নিশ্চিত থাকলেও এই বর্বরতার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?
সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাত ৯টার দিকে কিশোর সাজিদকে ধরে নিয়ে যান ঐ জামায়াত নেতা ও তার লোকজন।
এরপর সাজিদকে একটি গাছে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে পেটাতে শুরু করেন।
নির্মম নির্যাতনে কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জামায়াত নেতার স্বজন ও পরিবারের কয়েক জন নারী সদস্য তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সাজিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন আতাউর মাস্টার ও তার সহযোগীরা।
পর দিন ভোরে স্বজন ও এলাকাবাসীকে ডেকে এনে সাজিদকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সাজিদ জানায়, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারা রাত গাছে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।
এদিকে, এত অত্যাচারকে জামাতি বলছেন একটু শাসন। অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার বলেন, ‘ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ ‘একটু শাসন করা হয়েছে।’
