ঢাকা: দুর্গা পূজার দিনগুলি চোখের পলকে কেটে যায়। ষষ্ঠী থেকে মহানবমী—আনন্দে, ভিড়ে, ঢাকের তালে—তারপর মুহূর্তেই যেন এসে হাজির হয় বিদায়ের সুর।

সনতনীদের ভীষণ মন খারাপের দিন আজ। কারণ ধর্মীয় মতে আজ মা দুর্গা বাপের বাড়ি ছেড়ে অর্থাৎ মর্ত্যলোক ছেড়ে চলে যাচ্ছেন স্বামী শিবের বাড়ি। আবার এক বছরের অপেক্ষা উমা আসার।

আজ বিজয়া দশমী। দুর্গাপুজোর অবসান এই দিনে। শেষ দিনে আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একাধিক রীতি, যার মধ্যে অন্যতম দেবী দুর্গার বরণ। এই তিথিতেই থাকে দশভুজা ও তাঁর সন্তানসন্ততির বরণপর্ব।

ঘরের মেয়ে ফিরে যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি, তাই যত্ন করে বিদায় জানাতে হয়।

মহানবমীর দিন রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তের ঢল নামে। হাজার হাজার হিন্দু ভক্ত ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন মন্দিরে মন্দিরে দেবী দর্শনে আসেন।

বিশেষ করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন গলিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। প্রচুর ভিড়।

নবমী পূজা ও সন্ধ্যা আরতি শেষে বিদায়ের সুর বাজতে শুরু করেছে। আজ বিজয়া দশমীতে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা।

বলা হয়, নবমীর রাতের মা দুর্গার মুখ পাল্টে যায়। করুণ হয়ে যায় মুখ। এটা সনাতনীরা বিশ্বাস করেন।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

হিন্দু শাস্ত্রমতে, এ নবমী তিথিতে রাবণ বধের পর রাজা শ্রী রামচন্দ্র এ পূজা করেছিলেন। নীলকণ্ঠ ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় নবমী বিহিত পূজা।

নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদ লাভ হয়। তাই শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে দশভুজা দেবীর পূজা হয়েছে।

বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের আগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হবে, যা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সদরঘাট গিয়ে শেষ হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *