ঢাকা: দেশে বেড়েই চলেছে বাল্যবিবাহের হার। যা সমাজের অভিশাপ। বাল্যবিবাহের অভিশাপ নিয়ে আমরা বারবার আলোচনা করি, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। কারণ সরকার, প্রশাসনের চোখ যতদিন না খুলবে ততদিন কিছুই করার নেই।

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এখনো, এই ২০২৬ সালেও বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়।

২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭. ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই।

তাদের মধ্যে ১৩. ৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সের আগেই। এই মেয়েগুলো তো নিশ্চয়ই ১৮ বছরের আগেই সন্তানের মা হয়ে গেছে। ওরা নিজেরাই তো এখনো সাবালিকা হয়নি। আবার আরেকজনের দেখভাল করা? শুধু তাই না, কম বয়সে মা হওয়ার অনেক ক্ষতিকর দিক আছে।

আসলে এই অপরাধগুলো শুধু ছেটে ফেললে হয় না, এর গোঁড়া যদি কাটা না হয় অপরাধ হতেই থাকবে।

বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে এ চিত্র জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।

সংখ্যাগুলো হয়তো আরো বেশিই হবে।

সংস্থাটি বলছে, বাল্যবিবাহ বন্ধ, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে শিশুদের কল্যাণে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল।

তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

ইউনিসেফের মতে, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এবং অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন ক্যাথরিন রাসেল। এ ছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *