ঢাকা: বাংলাদেশে বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে। প্রতিদিন কত কত প্রাণ যে ঝরে যাচ্ছে! অথচ কারো কোনো খবর নেই।
ড্রাইভারদের গাড়ির যে গতি, এমন হওয়ারই কথা। কে কত হাইগতিতে চালাতে পারে, সে প্রতিযোগিতা চলে। রীতিমতো রাস্তায় প্রতিযোগিতা চলে।
আদৌ কতজন ড্রাইভার জেব্রা ক্রসিংয়ের নিয়ম জানে সন্দেহ আছে?!
দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় গত ছয় বছর ৯ মাসে মারা গিয়েছে ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছে ২ হাজার ৯৫৮ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৩৭. ১৪%।
এবং পথচারী হিসেবে প্রাণ গেছে ২ হাজার ৮১২ শিশুর। সড়ক ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনা, অসচেতনতা ও শিশুবান্ধব পরিবহনব্যবস্থার অভাবকে এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশিও হতে পারে। এটাই তো সঠিক হিসেব নয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
২০২০ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী আছে ৩ হাজার ৫৪৭ জন।
৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ এবং শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশু নিহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুদের মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বলা হয়, গ্রামীণ সড়কে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ৭১৩ শিশু মারা গিয়েছে।
আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
