ঢাকা: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সফর শেষে দেশে ফেরার দুই দিন পর, ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (এসবি-১৫৭) ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছয়জন ব্যক্তিগত স্টাফ কর্মকর্তা—যাদের মধ্যে তিনজন ব্রিগেডিয়ার, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং একজন ক্যাপ্টেন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) তিনি দেশে ফেরেন।

জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ও তাঁর সঙ্গী কর্মকর্তারা কক্সবাজারে রাত্রি কাটান এবং পরদিন সকালে স্পিডবোটে করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

মূলত ওয়াকার উজ জামান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সেখানে তাঁরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নামেন এবং এরপর সেখান থেকে ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার’ উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন বলে জানা যায়।

এঁদের মধ্যে দুজন কর্মকর্তা হলেন মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার হাসান মুহাম্মদ এবং মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।

জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে একইভাবে পূর্বঘোষণা ছাড়াই সফর করেছিলেন; সে সময় তাঁকে একটি ছোট নৌযানের ডেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিলো।

কিন্তু তখন তিনি সেনাবাহিনীর পোশাক (ফ্যাটিগ) পরা ছিলেন না, টি-শার্ট ও ট্রাউজার পরেছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপে—এবং সেখান থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে—যে সফরটি হয়েছে, এটাও এক্কেবারেই পূর্বঘোষণাহীন। কোনো ঘোষণা ছাড়াই এই সফর, হঠাৎ!

অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে দুই সপ্তাহব্যাপী সফর শেষ করার দুদিন পরই তিনি এই সফরে যান।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের জুন মাসে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এটিই জেনারেল জামানের দীর্ঘতম বিদেশ সফর।

উল্লেখ্য যে, ওয়াকার উজ জামানের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অভিযান সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগ কিংবা সরকার—কেউই ঢাকার গণমাধ্যমকে কিছু জানায়নি।

আসলে তিনি কী মাছ ধরতে পেরেছিলেন? কী মাছ ধরেছেন? বা মাছ ধরার জন্য তিনি বড়শি নাকি জাল ব্যবহার করেছিলেন, তা অবশ্য জানা যায়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *