ঢাকা: ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে!
শিশু চোর সন্দেহে নাকি ঐ লোককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। দেশজুড়ে হত্যাকারীরা, মবকারীরা আইন হাতে তুলে নিচ্ছে, আর সরকার নিস্পৃহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।
নিহত ৪১ বছর বয়সি আলম শেখ নামের ওই ব্যক্তিকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। আধাপাগল একজন মানুষকে মেরে ফেললো শিশু চোর অপবাদ দিয়ে!?
এদের এত সাহস কী এমনি এমনি বেড়েছে? আজকে কী প্রথম এরা হত্যা করলো? কচু গাছ কাটতে কাটতে ডাকাত হয়, মানুষ কাটে। কচু গাছ কাটার সময় কোনো লাগাম টানা হয়নি, তাই এখন মানুষ কাটছে..! ব্যস!
বুধবার (২২ অক্টোবর) গভীর রাতে হাসপাতালে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান।
আলম হত্যার ঘটনায় একজনকে আটকের তথ্য দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ইবনে মিজান বলেন, ঘটনার যে হোতা, তাকে আমরা আটক করেছি। নিহতের পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা আসলে মামলা হবে।
তবে আটক ব্যক্তির বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানাননি তিনি।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ বলছে, রাত ১১টার দিকে আলম শেখ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের আত্মীয় স্বজনরা তাকে শিশু চোর বলে সন্দেহ করেন।
শিশুদের স্বজনরা আলম শেখের কাছে হাসপাতালে আসার কারণ জানতে চাইলে ঠিকমতো কিছু বলতে পারেননি তিনি।
তারপরেই একদলব্যক্তি আলম শেখকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন, মায়ের চোটে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেছে। পরে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে আলম শেখের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
নিহত আলম শেখ ঢাকার রূপনগরের এলাকার বাসিন্দা। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
