বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা পার্বত্য চট্টগ্রাম (CHT) দীর্ঘকাল ধরেই এক ভূ-রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতের ক্ষেত্র। সম্প্রতি রাঙামাটির সাজেক ভ্যালির গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সংঘটিত সহিংসতা, সড়ক অবরোধ এবং গোলাগুলির ঘটনা এই অঞ্চলের পুরোনো ক্ষতকে নতুন করে সামনে এনেছে।

সাজেকের এই উত্তেজনা কেবল স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ জাতিগত দ্বন্দ্ব, ভূমি বিরোধ, পর্যটন কেন্দ্রিক উচ্ছেদ, ভারতের মণিপুরের চলমান জাতিগত সংঘাতের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক ‘ডিপ স্টেট’ বা মাস্টারপ্ল্যানের নানামুখী জল্পনা-কল্পনা।

বিবিসি সহ দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের চুলচেরা বিশ্লেষণে পাহাড়ের এই বহুমুখী সংঘাতের চিত্রটি অত্যন্ত জটিল এক সমীকরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

সাজেক পরিস্থিতি: ইউপিডিএফ ও আইএসপিআর-এর পরস্পরবিরোধী বয়ান রযেছে। গত ২২ অক্টোবর ২০২৬-এ সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UPDF) সমর্থিত জোটের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী ও আঞ্চলিক পাহাড়ি সংগঠনগুলোর মধ্যে স্পষ্ট ভিন্ন বক্তব্য বা ন্যারেটিভের লড়াই দেখা যাচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (ISPR) বক্তব্য: আইএসপিআর-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গঙ্গারাম বাজার এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণকে জিম্মি বা ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ করে।

নিরাপত্তা বাহিনী যখন সেখানে আটকা পড়া প্রায় ৩,০০০ পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করার চেষ্টা করছিল, তখন ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা লক্ষ্য করে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র দলটি পালিয়ে যায়।

ইউপিডিএফ ও জুম্ম অধিকার রক্ষা কমিটির পাল্টা দাবি:

আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর একাংশ এবং তথাকথিত সেটেলার বা বহিরাগতদের মদদে স্থানীয় জুম্ম জনগণের অধিকার হরণ করা হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমাতেই একে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে। এই দুই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাহাড়ের গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক বিভাজনকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

পর্যটন উন্নয়ন বনাম জুম্ম জনগণের ভূমি উচ্ছেদ:

সাজেক আজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন স্বর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও, এর পেছনে স্থানীয় জুম্ম (পাহাড়ি) জনগোষ্ঠীর দীর্ঘশ্বাস ও ক্ষোভের এক অদৃশ্য ইতিহাস রয়েছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় কার্বারিদের অভিযোগ, সেনাবাহিনী এবং বড় বড় বাণিজ্যিক কর্পোরেট গোষ্ঠী সাজেক ভ্যালিকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রক্রিয়ায় বহু আদিবাসী জুম্ম পরিবার তাদের ঐতিহ্যগত জুম চাষের জমি হারিয়েছে।

পর্যটনের অবকাঠামো, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং রাস্তাঘাট নির্মাণের ফলে শত বছরের বসতভিটা থেকে অনেক পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে।

উন্নয়নের এই জোয়ার পাহাড়ি জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনার চেয়ে তাদের প্রান্তিকীকরণ, পানি সংকট এবং বন উজাড়ের পরিবেশগত বিপর্যয়কে তীব্র করেছে।

স্থানীয়দের মতে, এই পর্যটন আসলে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর এক ধরণের বাণিজ্যিক আগ্রাসন, যা তাদের মনে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

বাঙ্গালি সেটেলার তথা মুসলিম উগ্রবাদী বাংলাদেশীদেরকে পাহাড়ী জুম্ম জাতিগোষ্ঠীর জায়গায় জোরকরে বসতি স্থাপন করতে দেয়ায় প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে জুম্মু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে।এর ফলে সেখানকার জনসংখ্যার ভারসাম্যও নষ্ট হয়েছে মারাত্মকভাবে।

পার্বত্য শান্তি চুক্তি (১৯৯৭)-র পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পাহাড়ে ভূমি বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আশির দশক থেকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সমতল থেকে নিয়ে যাওয়া বাঙালি অভিবাসী (যাদের পাহাড়ি সমাজ ‘সেটেলার’ বলে থাকে) এবং আদিবাসীদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব সাজেক ও সংলগ্ন বাঘাইহাটে প্রায়শই রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।

পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর অভিযোগ, সেটেলাররা স্থানীয় প্রশাসন ও এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে পাহাড়িদের জমি দখল করছে, যার ফলে জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ছে।

বিপরীতে, বাঙালি জনগোষ্ঠীর দাবি, তারাও দেশের নাগরিক হিসেবে সেখানে বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর চাঁদাবাজি ও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এই দুই পক্ষের মধ্যকার জাতিগত মেরুকরণ সাজেকের সাম্প্রতিক সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে।

মণিপুর সহিংসতা ও সাজেক সংকটের মনস্তাত্ত্বিক যোগসূত্র কাজ করছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যকার জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ২০২৬ সালেও চলমান রয়েছে। এই মণিপুর সংকটের একটি পরোক্ষ ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-রাজনীতিতে অনুভূত হচ্ছে।

মণিপুরের কুকি-চীন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের (বিশেষ করে বান্দরবান ও রাঙামাটির সীমান্ত অঞ্চল) কুকি-চীন বা বম জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় মেলবন্ধন রয়েছে।

মণিপুরে কুকি জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিরক্ষামূলক এবং আগ্রাসী মনোভাবের জন্ম দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, মণিপুরের অস্থিতিশীলতার সুযোগে সীমান্তজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী (যেমন কেএনএফ বা ইউপিডিএফের কিছু অংশ) তাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যার প্রতিধ্বনি সাজেকের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেখা যাচ্ছে।

মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ ও খ্রিষ্টান রাষ্ট্রের নীলনকশার তত্ত্বটি বেশ অলোচিত হচ্ছে ইদানীং।যদিও এটি আনেক আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা আরো বেশি দাঁনা বেঁধেছে সাম্প্রতিক সংঘাতে।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ভূ-রাজনৈতিক আলোচনাটি সামনে আনেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের মে মাসে এক রাজনৈতিক সভায় তিনি দাবি করেন যে, বাংলাদেশ (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম) এবং মিয়ানমারের একাংশ (রাখাইন/চিন রাজ্য) নিয়ে একটি ‘পূর্ব তিমুর’ মার্কেট স্টাইল ‘খ্রিষ্টান রাষ্ট্র’ গঠনের আন্তর্জাতিক নীলনকশা বা ষড়যন্ত্র চলছে।

বঙ্গোপসাগরে বিমানঘাঁটি তৈরির সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে তাকে পুনর্নির্বাচনের টোপ দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে একে প্রায়শই পশ্চিমের, বিশেষ করে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ বা কোনো শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে সন্দেহ করা হয়, যার উদ্দেশ্য এই কৌশলগত অঞ্চলে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করা।

যদিও দেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এবং অনেক বিশ্লেষক এই তত্ত্বকে ‘কাল্পনিক’ বা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, তবুও দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে (যেমন মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অস্থিরতা) এই ‘জো রাষ্ট্র’ (Zogam) বা স্বাধীন দেশের তত্ত্বটি ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বহুমুখী সংঘাত ও ভবিষ্যৎ পরিণতি খুব একটা সুবিধের মনে হচ্ছেনা এখনকার পরিস্থিতি দেখে।কারন বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার রয়েছ তা মূলত একটি টলটলায়মান সরকার মাত্র।যেকোন সময় যে কোন দিকের ধাক্কায় তা কাত হয়ে যাওয়ার আশংকা প্রবল।

কারণ এ সরকারটি আমেরিকার অঙ্গুলি হেলনের বাইরে যাওয়ার কোন ক্ষমতা নেই।
সাজেক তথা সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে এক বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে:

১. আঞ্চলিক দলগুলোর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত:

জেএসএস (সন্তু লারমা), জেএসএস (সংস্কারপন্থী), ইউপিডিএফ (মূল) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর মধ্যকার আধিপত্য বিস্তারের লড়াই পাহাড়কে প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত করছে।

২. রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ বনাম স্বায়ত্তশাসন:

নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারি ও পর্যটন নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় জনগণের একাংশের কাছে প্রশাসনিক নিপীড়ন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

৩. অর্থনৈতিক ক্ষতি: সাজেক বন্ধ থাকায় স্থানীয় কোটি কোটি টাকার পর্যটন ব্যবসা ধসে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সাজেক ভ্যালির সাম্প্রতিক সহিংসতা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলাজনিত ঘটনা নয়; এটি মূলত ভূমি অধিকার, জাতিগত পরিচয়, অসম পর্যটন উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির এক জটিল মিশ্রণ।

পাহাড়ের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও জুম্ম জনগণের নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে হলে কেবল সামরিক উপায়ে নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে টেকসই সমাধান প্রয়োজন।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভূমি বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং স্থানীয় আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা করেই কেবল এই মেঘের রাজ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অন্যথায়, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি হিসেবে এই অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার মুখে পড়তে পারে।

আদিবাসীদের অধিকার আন্দোলনের ওপর দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে।

পর্যটকদের নিরাপদ উদ্ধার; সাজেক রুটে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ। জুম্ম জনগোষ্ঠী বনাম বাণিজ্যিক ও সামরিক বাহিনী পর্যটনের নামে ঐতিহ্যগত জুমের জমি দখল ও আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

পর্যটন পাহাড়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে তা ঠিক কিন্তু সেখানকার পরিবেশ বিপর্যয়, তীব্র পানি সংকট এবং পাহাড়িদের মনে অস্তিত্ব বিলুপ্তির ভয়কে কখনো দূরতো করতে পারেইনি বরং দিন দিন তা আরো বেড়ে চলেছে।

জাতিগত সংঘাত আঞ্চলিক পাহাড়ি দল বনাম সেটেলার বাঙালি পাহাড়ি সংঘাত প্রায়শ লেগে থাকে সেখানে।বাংলাদেশী মুসলিম সেটেলাররা জুম্মু জনগোষ্ঠীর জমি দখল করছে ক্রমাগতভাবে।

আর সেনা-বিজিবি তাতে সেটেরারদেরকে ইন্ধন ও নানাবিধ সহায়তা যোগায় এমন অভিযোগ বহুদিনের। ফলে জুম্মু জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নষ্ট করছে।

অপরদিকে বাংলাদেশী মুসলিম সেটেলাররা দাবি করছেন, তারাও দেশের নাগরিক ও তাদেরকে সরকার সেখানে জায়গা দিয়েছে।কিন্তু তারা পাহাড়ি সশস্ত্র দলগুলোর চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে।ফলে গভীর সামাজিক অবিশ্বাস এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়শই রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা ঘটে থাকে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বিষয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাবি, ভারতের (মণিপুর), বাংলাদেশের পাহাড়ি কিছু অংশ ও মিয়ানমার বেশ কিছু অংশ নিয়ে একটি খ্রীষ্টান রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত চলছে অনেকদিন থেকেই।

এমনকি তার কাছে একজন সাদা চামরার লোক এ ব্যাপারে একটি অবৈধ প্রস্তাবও নিয়ে এসেছিলেন। সেই খ্রীষ্টান রাষ্ট্র ও কক্সবাজার বেল্ট ঘিরে আমেরিকার ঘাঁটি করতে দিলে শেখ হাসিনাকে আজীবন ক্ষমতায় রাখারও প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল বলে তিনি কিন্তু বেশ কয়েকবারই তা বলেছিলেন।এমন আমেরিকান ডিপষ্টেটের নীলনকশাটিকে কখনো উড়িয়ে দেয়ার অবকাশ নেই।

# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *