চট্টগ্রাম: পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র রাঙামাটির সাজেকে গতকাল ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিভৎস পরিস্থিতি যাকে বলে।
মানবাধিকার সংস্থা এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (ACHR) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সাজেকে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হামলায় ১০০ জনেরও বেশি আদিবাসী আহত হয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র রাঙামাটির সাজেকে আন্দোলনরত আদিবাসীদের ওপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হামলার ঘটনা ঘটে।
সংস্থাটি জানায়, গতকাল ২২ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র ক্যাডারদের অপসারণের দাবিতে আদিবাসীরা বিক্ষোভ করছিলেন। সেই বিক্ষোভ চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ACHR আরও অভিযোগ করেছে, ঘটনার প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র ক্যাডারদের এলাকা থেকে অপসারণের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ এবং ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’-এর ব্যানারে অহিংস আন্দোলন করে আসছিলেন স্থানীয় শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
তারা সড়ক অবরোধের মাধ্যমে তাদের দাবি জানাচ্ছিলেন। ২২ অক্টোবর ফের সড়ক অবরোধ শুরু হলে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র ক্যাডারদের অপসারণ না করে উল্টো আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে শতাধিক আদিবাসী আহত হন।
উল্লেখযোগ্য যে, জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) নেতৃত্বাধীন পিসিজেএসএস ১৯৭২ সালে বিদ্রোহী গ্রুপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর থেকে কোনো ধরনের নির্বাচন ছাড়াই এই দলটিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতায় রাখা হয়েছে।
আইনের শাসন ও সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত কোনো দেশেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতাকে আঞ্চলিক পরিষদের মতো আইনি সংস্থার প্রধান হিসেবে থাকতে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংস্থা ‘এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস’ (ACHR)।
সংস্থার হেড অব রিসার্চ তেজং চাকমা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও, বিপুল মারণাস্ত্রে সজ্জিত ক্যাডার বাহিনী থাকা সত্ত্বেও সন্তু লারমাকে ক্ষমতার শীর্ষে বহাল রাখা হয়েছে।
এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (ACHR) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পিসিজেএসএস-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
