গাজীপুর: পড়াশোনা করাবে শিক্ষার্থীদের ভালো করে, তা না এরা চুমু খায়, ধর্ষণ করে, পিটিয়ে মেরে ফেলে!?

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৬) যৌন নিপীড়ন করে এক মাদ্রাসা শিক্ষক। মোসলেম আহম্মদ (৩০) নামের ঐ মাদ্রাসাশিক্ষককে ঠাঁটিয়ে চড় মারার ঘটনায় জনগণ ধন্য ধন্য করছে।

বুধবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে , এক চড় খাওয়ায় হুজুরদের মুখের বুলি বের হয়ে গেছে। ওরা এখন আইন দেখাচ্ছে। রাজাকাররা ক্ষেপে উঠেছে।

একটা থাপ্পড় খেয়ে এখন হুজুররা বলছে, দেশে আইন আছে, আদালত আছে, বিচার আছে। অপরাধ করলে বিচার আছে। গায়ে হাত তুলবে কেন?

অথচ আজ থেকে ৭ দিন আগেও, এরা সাতক্ষীরায় একজন জ্বলজ্যান্ত মানুষকে উৎসব করে পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল “ধর্ম অবমাননার” অভিযোগে।

মাজার থেকে লাশ উঠিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ময়মনসিংহে জ্যান্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল দিপু চন্দ্র দাসের লাশ। এখানেই শেষ নয়, আরো হাজার হাজার ঘটনার প্রমাণ আছে, তখন কোনো আইন লাগে না। আর একটা চড় দিতেও, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে আইন লাগে!

যৌন নিপীড়নের ঘটনায় শিশুটির বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে আবার মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়।

ঐ অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কয়েকজন।

তখন ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘…আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু…।’ এরপর ‘কিসের চুমু রে’ বলে তাঁকে ঠাঁটিয়ে চড় মারেন একজন। এক চড়ে কাত হয়ে পড়ে যান হুজুর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অশালীনভাবে স্পর্শ করার কথা স্বীকার করছেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা ওই শিক্ষককে চড় মারেন।

শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর মেয়ে ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। গত সোমবার শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করেছেন। ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *