ময়মনসিংহ: খুন করে ফেলা হলো এক হিন্দু ব্যক্তিকে। হিন্দু খুন করা সোয়াব, বিচার হয় না। কোনো ব্যাপার না। তাই হিন্দু খুন করতে মজা।

ময়মনসিংহের ভালুকায় সেলুনের কাজ করতেন রবীন্দ্র, তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে।

বাংলাদেশের হিন্দুদের স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উদযাপনের আনন্দ এখনও শেষ হয়নি।

শুরু হয়ে গেছে আবার বেছে বেছে হিন্দু হত্যা, ধর্মীয় অনুভূতিতে সুড়সুড়ি লাগার মিথ্যা অভিযোগে জায়গায় জায়গায় হিন্দুদের উপর আক্রমণ তো চলছেই।

ময়মনসিংহের ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি নামে ৪৩ বছর বয়সী এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছেন সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি।

সাদ্দাম হোসেন (২৮) নামে ঐ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সাদ্দামকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত রবীন্দ্র ঋষি জামিরদিয়া এলাকায় নোমান কম্পোজিট ফ্যাক্টরির পাশে ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বাস করতেন। ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে ‘অপূর্ব হেয়ার কাটিং’ নামে তার একটি সেলুন ছিল।

হত্যাকারী সাদ্দামও সেই একই এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা বাবুল হোসেনের সেখানে একটি দোকান রয়েছে।

নিহত রবীন্দ্র ঋষির স্ত্রী সুচিত্রা সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেন, মাদক সেবনের জন্য সাদ্দাম প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতেন। এ ছাড়া সেলুনে চুল কাটানোর পর টাকাও দিতেন না।

টাকা না দেওয়া ও চুল কাটতে না দেওয়া নিয়েই কিছুদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগেও সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

এবং এই বিরোধের জেরেই রবীন্দ্র ঋষিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ সুচিত্রার।

এছাড়া আরো একটা বিষয় জানা গেছে, রবীন্দ্রর মেয়েকে নাকি উত্ত্যক্ত করতো সাদ্দাম।

প্রায় তিন মাস আগে রবীন্দ্রের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সাদ্দামের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ হয়। ওই ঘটনার জের ধরেও সাদ্দাম তার ওপর হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন বলে দাবি পরিবারের।

ময়নাতদন্ত শেষে রবীন্দ্রর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *