রাঙামাটি: অস্থিতিশীল সাজেক। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে আজ টানা নবম দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি চলছে।

এই অবস্থায় বন্ধ রয়েছে পর্যটকদের যাতায়াত, স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটন ও পরিবহন ব্যবসা। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে কিন্তু প্রধান যে দাবি সেটি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি।

সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার মূল দাবিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দিতে এবং সাজেকে ধারাবাহিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও স্থানীয়দের সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে।

দুর্গা পূজার জন্য ১৬-২১ অক্টোবর এই অবরোধ কর্মসূচি বন্ধ থাকলেও পূজার ছুটি শেষে অবরোধ কার্যক্রম আবার সচল করা হয়।

আজ তার নবম দিন।

এবার সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি হুমকি তথা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের দ্বারা কোন হামলা হলে সরকার ও সেনাবাহিনী দায়ী থাকবে বলে পরিষ্কার প্রেস বিবৃতি দিয়েছে তারা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের হামলায় বা অত্যাচারে সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় সরকার ও সেনাবাহিনীকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন।

আজ ৩০ অক্টোবর সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন।

তাঁরা বলেন ’গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারী প্রতিনিধিবৃন্দ জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে অপারগতা প্রকাশের পর তাদের সশস্ত্র তৎপরতা আরও বেড়ে গেছে।

সন্তু গ্রুপ আজ ৩০ অক্টোবর চুদুগীছড়া মুশফিক আর্মি ক্যাম্প থেকে মাত্র ৫-৭ মিনিট পায়ে হাঁটা দূরত্বে প্রথমে গঙ্গারামের উত্তর ভাইবোনছড়া গ্রামে ও পরে ভাইবোনছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করে লোকজনকে হুমকি দিচ্ছে ও জুলুম চালাচ্ছে। অথচ তারপরও সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

গণবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সেনাবাহিনীর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক প্রশ্রয় দান তথা সন্ত্রাস দমনে সরকার-সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও অঙ্গীকারকে বার বার প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে তারা মন্তব্য করেন।

দুই নেতা আবারো খুব দ্রুত সাজেকবাসী তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *