ঢাকা: শেখ হাসিনা-ঘনিষ্ঠদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারেক রহমানের সরকার শুদ্ধিকরণের নামে মূলত বিরোধী কন্ঠ দমন করারই চেষ্টা করছেন!
৮ জন পুলিশ কর্তাকে বরখাস্ত করল তারেক রহমানের সরকার।
অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন তাঁরা। তবে এটাই কী শেষ কারণ? বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলো শেষ কারণ না।
দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে ফিরে না আসার দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদসহ পুলিশের ৮ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বাকি কর্মকর্তারা হলেন- রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইহি মো. আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, ডিএমপির সহকারি মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সহকারি পুলিশ সুপার ফারহানা তাসকিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্তের খবর জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
সেখানে বলা হয়, পলায়ন অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে গিয়ে নাকি আর ফেরেননি দুই কর্মকর্তা!?
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ফারহানা তাসকিন ও মো. মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থান করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়!
ফারহানা তাসকিন ডিএমপির প্রশাসন-ট্রাফিক উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার ছিলেন।
স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৪২ দিনের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি নিয়ে কানাডায় যান তিনি।
পরে নাকি তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে আরও ৩৬ দিনের ছুটি বৃদ্ধির আবেদন করেন। এরপর কানাডার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন বছর মেয়াদি সিপিএ কোর্সে পড়ার জন্য শিক্ষাছুটির আবেদন করেন। তবে মন্ত্রণালয় সেই আবেদন নাকচ করে তাঁকে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি আর ফেরেননি।
প্রজ্ঞাপনে অনেক কথাই বলা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আর কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবও নাকি দেননি তিনি।
পরে সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে, ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সর্বশেষ ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। বলা হয় তাঁর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কর্মস্থলে ফেরেননি।
এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশেরও জবাব দেননি তিনি। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শক্রমে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
