সিলেট: আন্তর্জাতিক সীমান্তে কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে আসামে অবৈধ বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

একের পর এক অবৈধ বাংলাদেশি আটক করা হচ্ছে। তাঁদের কাছে নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র, ভিসা, পাসপোর্ট!

একদিকে দেশে ভারত বিরোধিতার ঢেউ ওঠে, আরেকদিকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে এরা ভারতেই যাচ্ছে। আসাম তথা ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এদেরকে আটক করা হচ্ছে। তারপরেও আমাদের দেশে শোনা যায়, ভারত নাকি ইচ্ছে করে মুসলমানদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে!

যাই হোক, গত শুক্রবার তথা ৩০ অক্টোবর ভারতের আসামের ধুবড়ি জেলা থেকে আরও ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী একটি সুসংগঠিত দালাল চক্রের সক্রিয় উপস্থিতি এবং ট্রানজিট করিডোর হিসেবে আসামের ধুবড়ির নদীপথ ব্যবহারের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

শুক্রবার ৩৬ জন গ্রেফতার হওয়ার ফলে তিন দিনে আসামে আটক হওয়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে।

এর আগে আসামের করিমগঞ্জ জেলা থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে আরও ৩৮ জন বিদেশী নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এই বিষয়গুলো মূলত আসামের জনগণের মনেও একটা ভিন্ন প্রভাব ফেলছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ঐ দলটি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এদের সবার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

ধুবড়িকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে ট্রেনে বা অন্য কোনো উপায়ে তাদের ভারতের চেন্নাই যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে, সীমান্ত পার করে দেওয়ার বিনিময়ে তারা প্রত্যেকে দালালদের ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা করে দিয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, কয়েকদিন ধরেই একদল বাংলাদেশি নাগরিকের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ছিল পুলিশের কাছে।

ব্রহ্মপুত্র নদীপথের ঘাটগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়।

তারপরেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ধুবড়ি শহরের যোগামায়া ঘাটে অভিযান চালিয়ে ৩৬ জন অবৈধ বাংলাদেশিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে ধুবড়ি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু নথিপত্র এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্ত শেষ হওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *