ঢাকা: শ্রমিকদের আন্দোলন, বিক্ষোভে উত্তপ্ত দেশ। ইতিমধ্যে প্রচুর সহিংস ঘটনা ঘটেছে। যা কাম্য ছিলো না।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না সরকার।

কয়েকদিন ধরে শ্রমিকরা যখন আন্দোলনে রাজপথে তখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (শিলং সালাউদ্দিন নামেই সমধিক পরিচিত), প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ অভিযোগ তুলেছেন যে, সীমান্তের ওপাড় থেকে  নাকি এই  আন্দোলনে ইন্ধন যোগানো হচ্ছে ।

এছাড়াও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরির পেছনে ভারত জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদ এর মুখপাত্র আবু হানিফ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ক্ষমতাসীন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার  নিজেরা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলেই  ভারত জুজু খুঁজতে থাকে।

যা কিছু হয়, নিজের দেশে কারো পানির মোটর খারাপ হলেও বলে ভারতের জন্য। কী অদ্ভুত!

তবে যা তথ্য পাওয়া গেছে তাহলো- সীমান্তের ওপাড় থেকে নয় বরং জামায়াতে ইসলামী ভেতর থেকে সরকারকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইছে। আন্দোলনের আড়ালে কাজ করছে রাজাকার গোষ্ঠী।

এবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছে ভারত।

বাংলাদেশে চলমান পোশাক শ্রমিকদের অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত।

একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে একটি “ইতিবাচক ও গঠনমূলক” সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) দ্বিপাক্ষিক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই তথ্য জানান।

বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। সেখানে কিছু নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনা ঘটছে, যা আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা সবসময় একটি ইতিবাচক, দূরদর্শী এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করতে চাই।”

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহুল আলোচিত গঙ্গা পানি চুক্তি এবং অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো আলোচনা নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি ‘যৌথ নদী কমিশন’ (জেআরসি) রয়েছে। গঙ্গা নদীসহ সমস্ত আন্তঃসীমান্ত বা অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে আলোচনার জন্য এটিই একমাত্র সুনির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *