ঢাকা: ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী মাসেই (ডিসেম্বর) ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি আগেও বলেছেন ফিরবেন, এবং আবারো বললেন।

মৃত্যুর খাঁড়া মাথায় নিয়েই তিনি দেশে ফিরবেন।

মার্কিন সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানান। গত সপ্তাহে তাঁর কাছে পাঠানো ইমেইল বার্তার জবাবে বুধবার (৪ নভেম্বর, ২০২৬) তিনি এই প্রতিক্রিয়া দেন।

ভারত থেকে কীভাবে দেশে ফিরবেন সে বিষয়ে কোনো কৌশল প্রকাশ না করলেও, বাংলাদেশে পৌঁছানোর সাথে সাথে তিনি গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে পারেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “যদি মৃত্যুই আমার নিয়তি হয়, তবে আমি পরবাসে না মরে নিজের দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের মাঝেই মরতে চাই। তাই আমি বাংলাদেশে ফিরব। আমার সেই সিদ্ধান্ত বদলায়নি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি জানি দেশে ফিরলে আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। আমাকে কারাবন্দী করা হতে পারে, নির্যাতন করা হতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলা হতে পারে। আমি এই সমস্ত সম্ভাবনা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। কিন্তু দূর থেকে আমার দেশের মানুষের কষ্ট দেখে আমি বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারি না।”

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, দলটির নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং উগ্রপন্থিদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন তিনি।

নিজের সরকারের আমলে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পরও দেশে ফেরার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি বলে জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ট্রাইব্যুনালের রায় ও বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

এদিকে, সরকার একাধিকবার তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানালেও ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারত জানিয়েছে আইনের ঊর্ধ্বে কিছু নয়। যা হবে আইন মতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, “দেশে বর্তমানে কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই।”

সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন দেশে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ওপর আঘাতের তীব্র সমালোচনা করেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো দেশগুলো বাংলাদেশের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি কোনো বিদেশি সুরক্ষা চান না।

তিনি বলেন, “আমি সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা মূল্যায়ন করি। সেটিই সবসময় আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ছিল। তবে নিজের দেশে ফেরার জন্য আমার কোনো বিদেশি শক্তির আশীর্বাদের প্রয়োজন নেই।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *