ঢাকা: বাংলাদেশের কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পাল্টানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এবং চারটি জাহাজের নাম জাতীয় চারনেতা তাজউদ্দীন, সৈয়দ নজরুল, মনসুর আলী, কামরুজ্জামানের নামে।

এই ঘটনাটা আবারো বুকে জোর ধাক্কা লাগার মতো!

কোন জাতি এতোটা আত্মঘাতী আর আত্মবিস্মৃত হতে পারে জানা ছিল না। দিনদিন দেশটা গ্রহণে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।

বিএনপি নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা জিয়ার দল দাবী করে, আর তাহলে মুক্তিযুদ্ধের এই চার নেতার নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র কেন?

ওরা কী আদৌ জানে এই নেতারা কারা ছিলেন? জয় বাংলার মাহাত্ম্য কী?

জাহাজগুলোর নাম ছিল ‘জয় বাংলা’ এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের নামে, সেই নামগুলো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আসলে কী?

সত্যিই কী প্রয়োজন ছিলো? নাকি কাউকে খুশি করার জন্য এই অপকর্ম?

সরকারি প্রজ্ঞাপনে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

‘বিসিজিএস জয় বাংলা’ নামের একটি জাহাজের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘বিসিজিএস অদম্য বাংলা’।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত-৩ শাখা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার এ-বিষয়ে একটি চিঠি বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাহিনীর পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নাম পরিবর্তনের তালিকায় থাকা
জাহাজগুলোর মধ্যে পিসি ২০৮ নম্বর জাহাজটির বর্তমান নাম ‘বিসিজিএস জয় বাংলা’। এর নতুন নাম হবে ‘বিসিজিএস অদম্য বাংলা’।

অন্য চারটি জাহাজের মধ্যে পিএল ৭১ নম্বর জাহাজটির বর্তমান নাম ‘বিসিজিএস সৈয়দ নজরুল’। এর নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘বিসিজিএস ফিরোজ কবীর’।

পিএল ৭২ নম্বর জাহাজ ‘বিসিজিএস তাজউদ্দীন’-এর নতুন নাম হয়েছে ‘বিসিজিএস নুরুল ইসলাম’।

পিএল ৭৩ নম্বর জাহাজ ‘বিসিজিএস মনসুর আলী’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বিসিজিএস এম হাফিজুর কবীর’।

এবং পিএল ৭৪ নম্বর জাহাজ ‘বিসিজিএস কামরুজ্জামান’-এর নতুন নাম হয়েছে ‘বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী’।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জাহাজগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে। এতে সই করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মারজিনা হোসেন।

চার নেতার ভূমিকা চলুন দেখি একটু:

তাজউদ্দীন আহমদ: তিনি মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি, রণকৌশল নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত ও কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে তিনি ঐতিহাসিক ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও বিভিন্ন সেক্টর সমন্বয়ের নেতৃত্ব দেন।

ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী: তিনি মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধকালীন সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, তহবিল সংগ্রহ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ও শরণার্থী মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যবস্থাপনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

এ এইচ এম কামারুজ্জামান: তিনি মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া কোটি কোটি শরণার্থীর ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি ভূমিকা পালন করেন।

কিন্তু চলছে তো রাজাকারের জমানা! তাই মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, আর জয় বাংলা মুছে ফেলা হচ্ছে।

কিন্তু মানুষ ভুলবে কী? জয় বাংলা মূলত স্বাধীন দেশের জনগণের রক্তে প্রোথিত।তাই অপচেষ্টা করে কোনো ফায়দা হবে না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *