ঢাকা: ‘দুই মাস হইছে, মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি!’ — এই একটি বাক্যই যথেষ্ট এই দেশের সাধারণ মানুষের বর্তমান মানবেতর জীবনের করুণ চিত্র তুলে ধরার জন্য।

প্রতিটা জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি হয়েই চলেছে। অথচ কারো রোজগার বাড়ে না।

সরকারের মূল্যবৃদ্ধি যেন সাধারণ মানুষের পেটে সরাসরি লাথি!

শুধু চুলার LPG গ্যাসের দাম নয়, বেড়েছে গাড়ির অটোগ্যাসের দামও। অর্থাৎ ঘরের রান্না থেকে শুরু করে রাস্তায় চলাচল—সবখানেই বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ মানুষের কাঁধে।

​আজ দেশে চলছে এক নীরব দুর্ভিক্ষ! একদিকে মানুষের কোনো কর্মসংস্থান নেই, আয়ের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ; অন্যদিকে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে ব্যয় ও পণ্যের দাম।

শুধু দাম বৃদ্ধি নয়, গ্যাস নির্ধারিত দাম থেকে বেশি দিয়েও মিলছে না। কোথাও যদি পাওয়া যাচ্ছে তবে সঠিক মূল্যে নয়। আরো বেশি দিয়ে।

গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, জ্বালানির চড়া দাম—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ। একের পর এক শিল্প-কলকারখানা ও কর-কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও গদাধরদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

​এরা দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কথা বলে আসলেও মূলত এসেছে নিজেদের আখের গোছাতে, দেশটাকে লুটেপুটে খেতে!

আজ নিজেদের ব্যর্থতায় পুরো দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে দেশকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে।

​জনগণের পকেট কেটে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অপরাজনীতি চলছে দেশে।

একদিকে মানুষ পেটের দায়ে মাছের গন্ধ ভুলে গেছে, অন্যদিকে কৃষকদের সারের লাইনে দাঁড়িয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াতে হচ্ছে! নাটোরের ঘটনা প্রমাণ করে, দেশে মূলত কী চলছে।

সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতে কৃষকদের সার নিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে অপমান করা হচ্ছে, পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা করানো হচ্ছে! এই দেশে মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন কীভাবে হবে?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *