কুমিল্লা: নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন,অথচ শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মানটুকু জুটল না! প্রশাসনের উদাসীনতার এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে?

দেশটা ২০২৪ এর ৫ আগস্ট থেকে কোথায় পৌঁছেছে সেকথা আর না বললেও চলবে। দেখছে সারা বিশ্ব। কিন্তু আমাদের সরকার দেখে না।

একাত্তরে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে,জীবন বাজি রেখে যাঁরা আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন, তাঁদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। অথচ মৃত্যুর পর তাঁর শেষ বিদায়টুকুও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিশ্চিত করতে পারল না কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসন!

মারা যাওয়ার পরেও একজন মানুষকে অপদস্থ করা, এটাই বলে ইসলাম?

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে (৭৮)।

উপজেলা প্রশাসনের দাবি, জানাজার সময়সূচি নিয়ে সমন্বয়হীনতা এবং মরদেহ পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় সন্ধ্যার পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। পরে তাঁর মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

বিকেল সাড়ে ৫টার পর মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরিবারের মানুষের আশা ছিল, দীর্ঘ ৯ মাস অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানে শেষ বিদায় জানানো হবে।

কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মরহুমের ভাই শাহজাহান বলেন, “চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন, তিনি মৃত্যুর পর নিজের প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেলেন না। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের ও লজ্জার।”

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম তাঁদের জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয়, গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশ প্রস্তুত ছিল, বিউগলের দলও এসেছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কেউ উপস্থিত না থাকায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন করতে হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও প্রশাসনের এমন উদাসীনতা কেন?

সময়মতো সমন্বয় করতে না পারার দায় কি একজন মৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর শোকাহত পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *