কুমিল্লা: জঙ্গী, রাজাকার এনসিপি আবারো নিজেদের চরিত্র মাফিক কাজটাই করলো।

কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি সংরক্ষণের দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নগরের ধর্মসাগর পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাড়িটির সামনে তাঁর নাতনি আরমা দত্তের লাগানো সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাগল নেতাকর্মীরা।

তাঁদের দাবি, বাড়িটি বিক্রির উদ্যোগ বন্ধ করতেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কে ছিলেন তা কী জানে রাজাকার গোষ্ঠী?

তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সমাজকর্মী এবং ভাষা আন্দোলনের অন্যতম মহানায়ক।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পাকিস্তানের গণ পরিষদে ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন।

তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য তাঁর নাতনীর উত্তরাধিকার সূত্রে দাবি করা জায়গা এন সি পি কিভাবে দখল করে! স্মৃতি সংরক্ষণের মনোভাব থাকলে তার নাতনী আরমা দত্তকে সেটা জানানো এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তা করার উদ্যোগ নেয়া দরকার।

কোন রাজনৈতিক দল সেই জায়গা দখল করে এই ঘোষণা দিতে পারে কি?

ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন আরমা দত্ত।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে এনসিপির কুমিল্লা মহানগর শাখার নেতারা বাড়িটির সামনে গিয়ে সাইনবোর্ড ভেঙেচুরে একাকার করে ফেলেন। এর আগে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁরা বাড়িটি সংরক্ষণের পক্ষে বক্তব্য দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটি সংরক্ষণ করে স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। তবে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সম্প্রতি বাড়ির সামনে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত।

সেখানে ওয়ারিশ সূত্রে নিজেকে জমির মালিক উল্লেখ করে জমির দাগ নম্বর, মৌজা ও তাঁর বাবার নাম উল্লেখ করেন তিনি।

এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, বাড়িটির পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মতে, বাড়িটি কেবল ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

তবে এইসব ফাঁকা আওয়াজ। আসল উদ্দেশ্য ধ্বংস।

আরমা দত্ত বলেন, বাড়িটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং তিনি এর বৈধ ওয়ারিশ। সম্পত্তিটি সংরক্ষণ করবেন, নাকি বিক্রি করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। রাতে এভাবে বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, সাইনবোর্ড ভাঙার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *