ঢাকা: গণপিটুনি, মব জাস্টিস, ইত্যাদি অন্যায় দেশে দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এগুলোর স্বপক্ষে বহু মানুষকে সোল্লাসে সমর্থন জানাতে দেখছি।
আইনের শাসন কিংবা ন্যায়বিচারের দরকার নেই আর?!
দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক অপশাসনের মধ্যে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন এবং বিচারব্যবস্থার উপর অনাস্থা তৈরি হওয়াটা নিতান্তই স্বাভাবিক।
কিন্তু প্রশাসনের উচিৎ দায়িত্ব এবং তৎপরতার সাথে আইনের প্রতি মানুষের ভরসা এবং দায়বদ্ধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা।
কিন্তু কোথায় কী?
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুন-খারাপি, মব জাস্টিস (গণপিটুনি) এবং চাঁদাবাজির মতো ঘটনাগুলো নিশ্চিতভাবেই দেশের এক সময়ের বৃহত্তম বিরোধী দল এবং বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং ইমেজ সংকট তৈরি করেছে।
বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করা। কিন্তু সেদিকে তো তাদের মন নেই।
গত এক মাসে সারাদেশে গণপিটুনিতে মারা গেছেন ৩২ জন। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) গত অক্টোবরের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই পরিসংখ্যান।
তবে সংখ্যাটা যে এটাই তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৩৯. ১৩ শতাংশ। আর গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৬৪টি।
ইসলাম অবমাননার অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর সাতক্ষীরার দেবহাটায় এক যুবককে ঘিরে ধরে উত্তেজিত জনতা। তাদের মারধরে নিহত হন ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের ওই ব্যক্তি।
সাতক্ষীরার ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই গত ২৫ অক্টোবর রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী।
পরের দিন ভোরে একই জেলার মিঠাপুকুরে গরু চোর সন্দেহে খালিদ হাসান (৩২) নামের এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ২৩ জন। অক্টোবরে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ জনে। এই একই সময়ে আহতের সংখ্যা ৭৪ থেকে কমে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
সাতক্ষীরা ও রংপুর ছাড়াও অক্টোবরে চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ অন্তত ২৪ জেলায় গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। বাদ যায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।
মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে হত্যার ঘটনা তো কম ঘটেনি।
মবের পেছনে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থাহীনতাকে দায়ী করছেন মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান।
