ঢাকা: এবারের ঈদযাত্রা ‘স্মুথ’ হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী বলেন, ঈদের জার্নি স্মুথ হয়েছে বলেই আমি মনে করি। কারণ দেড় কোটি মানুষ তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে চেয়েছে, দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটার জন্য আমরা দুঃখিত, জাতি দুঃখিত, জাতি ভারাক্রান্ত, মর্মাহত।
বলেন, আমরা মনে করছি যেকোনো সময়ের চেয়ে দেড় কোটি মানুষ নিরাপদে, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়েছে। যদিও আমি বলছি যে, দুই-তিনটি দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে এবং যেটাকে বলা হয় ভারাক্রান্ত করেছে।
তবে ভারাক্রান্ত হলেই কাজ শেষ? দায়িত্ব শেষ? হিসেব তো তা বলছে না। আর এই দুর্ঘটনা কমাতে সঠিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।
ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭ দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ৩৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমনটাই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আর এসময় আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন।
সমিতির তথ্য বলছে, শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে মোট ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ, সোমবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্ঘটনার এই তথ্য জানায় সংস্থাটি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর পর্যালোচনা করে সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
তবে দুর্ঘটনার সব খবর তো থাকে না। এমন আরো দুর্ঘটনা ঘটেছে, এমনটাই সন্দেহ করা হচ্ছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি যে কথা বলছে তা ভয়াবহ। চলমান ইরান-ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে গত ১৫ দিনে হতাহত বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি। ভাবা যায়?
রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, নিহত হয়েছেন ৩৫ জন এবং ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখানে ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
