ময়মনসিংহ: কোথাও গলাকাটা অবস্থায় শিশু ঘুরে বেড়াচ্ছে, কোথাও সামান্য গলার চেইন ‘ছিনিয়ে নিতে’ শিশু হত্যা, লাশ লুকানো হচ্ছে চুলার ভেতরে! এইসব দেখেও কি দেখে না সরকার?
অপরাধ এত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, সরকার, প্রশাসন দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে? কী চাইছে আদৌ তারা? দেশের যত মেয়ে শিশু আছে,নারী আছে তারা সবাই মিলে যাক!?
জঙ্গী ইউনূসের সময় যেমন গেছে, আর এখন তারেক রহমানের সময়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য কী দেখা যাচ্ছে?
যদি সঠিক বিচার হয়, আইন সঠিক থাকে, তাহলে এত অপরাধ কীভাবে ঘটবে?
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবে।
এই ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, আমাদের সমাজের হাল। চার বছরের একটি শিশু… নাম তার মরিয়ম আক্তার।
দুপুরে খেলতে বের হয়েছিল, আর ফিরে আসেনি।
সন্ধ্যার আগে যখন সবাই ইফতারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন খবর এলো—মরিয়মের নিথর দেহ পাওয়া গেছে পাশের বাড়ির রান্নাঘরের চুলার ভেতরে! আজ্ঞে হ্যাঁ, চুলার ভেতরে পাওয়া গিয়েছে ছোট্ট শিশুটির দেহ।
ভাবা যায়? একটা ছোট্ট প্রাণ, যার পৃথিবী ছিল খেলনা আর মায়ের আঁচল—সেই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে শুধু গলার একটি রুপার চেইনের জন্য!
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত কিশোর নেশাগ্রস্ত। পুলিশের ধারণা, চেইন ছিনিয়ে নিতেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে শিশুটিকে। এরপর লাশ লুকিয়ে রাখা হয় চুলার ভেতরে—আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? এই একটা সমাজ?
একটা চেইনের মূল্য কি একটি শিশুর জীবনের চেয়েও বেশি হয়ে গেল? এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়—এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।
সমাজ, পরিবার, নৈতিকতা—সবকিছু ভেঙে পড়ছে।
শিশুদের নিরাপত্তার পক্ষে এবং নেশা, অপরাধ আর মূল্যবোধের অবক্ষয়—এই তিনটার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জরুরি।
সারা বছর অপরাধ করলেও রোজা রমজানের একমাস নাকি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোনো অপরাধ করে না। সাধু সেজে থাকে! এগুলো কী? আল্লাহর উপরে তাহলে এরা কথা বলে এখন। এই মাসেই দেখা যায় সবচেয়ে বেশি অপরাধ হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যার আগে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
মরিয়ম আক্তার উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই নিখোঁজ ছিল শিশুটি।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে মরিয়মকে পাওয়া যাচ্ছিল না। না পেয়ে পরিবারের লোকজন হন্যে হয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন।
অবশেষে কী দেখা গেলো? ইফতারের আগমুহূর্তে এক প্রতিবেশীর বাড়ির রান্নাঘরের চুলার ভেতরে লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ওই প্রতিবেশী ও তার ১৬ বছর বয়সী কিশোর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘কিশোরটি নেশাগ্রস্ত। শিশুটির গলায় থাকা একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।’
