ঢাকা: মারাত্মক হারে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে একমাসে। এ তো মাত্র একমাসের হিসাব। বছর বছর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

দেশের সাধারণ জনগণ এখন ঘরের বাইরে বেরোতে ভয় পায়।যেভাবে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে, তাতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

এই সড়ক দুর্ঘটনা কেন হয়? কেন বাড়ছে এই দুর্ঘটনাগুলো?

বাস-ট্রেনের সংঘর্ষ, জাহাজের সঙ্গে জাহাজের সংঘর্ষ, এবং ফেরি থেকে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ কী?

সাধারণ মানুষ মনে করে, দুর্ঘটনা হঠাৎই ঘটে, আগে থেকে বোঝা যায় না। কিন্তু আসলে তা না।

বাস্তবতা হলো— এসব দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে অদক্ষ চালক, অসচেতনতা এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন।

কিন্তু এত এত যে দুর্ঘটনা ঘটছে, তবুও সরকারের কোনো হেলদোল দেখা যায় না। সড়ক দুর্ঘটনায় আর কত প্রাণ ঝরবে?

এই সমস্যার সমাধান কি কোনোদিন সাধারণ মানুষ পাবে, নাকি তাদের আরও অসংখ্য প্রাণ দিতে হবে⁉️

সারাদেশে গত একমাসে ৫৭৬টি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন মোট ৫৩২ জন। এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ২২১ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন।

আজ, শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গিয়েছে।

৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদপোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

একমাসে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে, এবং এতে ১২ জন নিহত হয়েছেন, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এবং ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন ৬৭ জন এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন।

সাইকেল আরোহী থেকে মোটরসাইকেল আরোহী কেউ বাদ নেই সড়ক দুর্ঘটনা থেকে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসের যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসের আরোহী ৪৬ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৯৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-পাখিভ্যান-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

বিভাগ অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন।

সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।

রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে, ২৬৪টি ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে, ৯টি অন্যান্য জায়গায় সংঘটিত হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *