ঢাকা: যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা এই প্রহসনের নির্বাচন বয়কট করেছে।
কারাগারের প্রতিটা সেলে সেলে ব্যালট পাঠানোর পরও ভোট দেয়নি বন্দিরা, এদিকে আবার শিশু উপদেষ্টা গুজব ছড়াচ্ছে জুনায়েদ আহমেদ পলকও নাকি ভোট দিয়েছেন।
কারাগার থেকেও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ করে নির্বাচন কমিশন।
তবে অথর্ব ইসির উদ্যোগে সাড়াই দেননি ৯৩ ভাগ কারাবন্দী।
এর মানে কী দাঁড়াল? ১০০ জন বন্দির মধ্যে প্রায় ৭ জন লাইনে দাঁড়াতে রাজি হয়েছেন, আর বাকি ৯৩ জনের মত? “কীসের হ্যাঁ, কীসের না? ভোট দিতেই যাবো না?”
এই হিসাবেই বলা হচ্ছে—কারাগারের ৯৩% ভোটে অংশ নেয়নি।
এছাড়াও বিদেশে মোট বাংলাদেশি ধরা হয় প্রায় ১৫ মিলিয়ন। তাদের মধ্যে পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন প্রায় ৭.৭ লাখ।
অর্থাৎ ১০০ জন প্রবাসীর মধ্যে গড়ে ৫ জন আগ্রহ দেখিয়েছেন, আর বাকি ৯৫ জন? নৌকা ছাড়া ভোট নেই।
এদিকে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে, আওয়ামী লীগের কারাবন্দি শীর্ষ নেতারা ভোট দিয়েছেন। এই খবরও সঠিক নয় বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, সারা দেশে ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র চার হাজার ৫৩৮ জন।
আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বন্দিদের অনেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় তারা ভোট দেননি।
যদিও কারা কর্তৃপক্ষ অন্য কথা বলছে। এনআইডি কার্ড না থাকার কারণে নাকি বন্দিদের ভোটে অংশগ্রহণ কম হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগারে গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৪০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৫৩৮ জন ভোট দিয়েছেন।
এর মধ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, পরদিন ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ এবং শনিবার ৪৭১ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।
ভিআইপি আসামি কারা ভোট দিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম)
জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, ‘ভোট দিতে ৩৯ জন ভিআইপি বন্দি নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুসহ ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব, পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
তারা নিবন্ধন করলেও ভোট দিয়েছেন কি না, এ তথ্য আমাদের জানা নেই। যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে, জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, জুনাইদ আহমেদসহ অনেক ভিআইপি বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন বা ভোট দিয়েছেন, যা সত্য নয়। এমন তথ্য আমরা দিইনি। তারা নিবন্ধনও করেননি।’
