ঢাকা: একদিকে পাকিস্তান দিবস পালন, আরেকদিকে বাউল আসরে হামলা!
সিলেটে বাউল গানের আসরে হামলা আর ঢাকায় পাকিস্তান দিবস উদযাপন- এই দুটো ঘটনা একই সূত্রে গাথা।
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। তার আগে দেড় বছরের বেশি ক্ষমতায় ছিলো জঙ্গী ইউনূস। সে সময় তো বাউলদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, এবং সেই ধারা এখনো অব্যাহত।
বিএনপি সরকার গঠন করলে মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল দাবি করে নির্বাচনের আগে বিএনপি মানুষের ভোট নিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের আবেগ বেচে ক্ষমতায় এসেছে।
সরকার গঠনের দেড় মাস অতিবাহিত হয়েছে। জনগণের সেই ‘আশার গুঁড়ে বালি’ পড়তে শুরু করেছে।
মৌলবাদী গোষ্ঠীর কাছে সরকারের এই নতজানু নীতি কেন?
স্বাধীন দেশে যখন পরাজিত রাজাকার আলবদল আলশামসরা পাকিস্তান দিবস পালন করতে সাহস করছে। ব্রিটিশ বিপ্লবী সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। অথচ সরকার চুপ?
বিএনপি সরকার গঠন করার আগেও বিভিন্ন জায়গায় তৌহিদী জনতার নামে বাউল গানের আসরে হামলা হয়েছে।
এবং নতুন সরকার গঠনের পরেও সিলেটে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো।
এই ঘটনাগুলো কী বোঝাচ্ছে? বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে পারবে তো? আরেকটা ৫ আগস্টের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
রবিবার রাতে হামলা চালানো হয়েছে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে বাউল গানের আসরে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এভাবে বাউল গানের আসর বসালে আরও ভয়াবহ হামলা বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
বিগত ১৮ মাসের দুঃশাসনে মাজার ভাঙ্গার উন্মাদনা দেখেছে দেশ।
‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগানে উত্তেজনা, ভাঙচুর হয়। অভিযোগের তীর জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে।
এরাই কিছুদিন আগে নূরান পাগলার কবরস্থ মরদেহ তুলে পিটিয়ে-পুড়িয়ে উল্লাস করেছিলো।
এই হামলার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে ইব্রাহিম শাহ মাজারের পাশে একটি গানের আসর বসেছিল।
আয়োজকদের মতে, ইব্রাহিম শাহ মাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০০ বছর ধরে নির্দিষ্ট একটি সময়ে বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
এতে সিলেটের ভক্ত, দর্শনার্থীরা অংশ নেন। এবারও তিনদিনব্যাপী বাউলগানের আসরের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন, তথা রবিবার রাতে হঠাৎ শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর নষ্ট করে দেয়।
হামলাকারীরা বাউলগানের আসরের মঞ্চে উঠে এলোপাথাড়ি ভাঙচুর শুরু করেন। বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি মাজারের ভেতরে নয়। মাজারের মূল ভেন্যুর বাইরে গ্রামের পাশে তৈরি করা একটি মঞ্চে গান-বাজনা হচ্ছিল। তাদের তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান ছিল।”
