ঢাকা: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট শামীমা সাত্তার মিমু আর নেই।

তিনি ছিলেন ঈদগাহ বস্তি নিবাসী মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ এর কনিষ্ঠ কন্যা এবং আবু তাহের, মরহুম হিটু, মরহুম তোয়াব, মরহুম মান্নান ও মরহুম আজাদ শাহনেওয়াজ-এর ছোট বোন।

প্রচণ্ড মেধাবী ছিলেন তিনি। সত্তর ও আশির দশকে স্প্রিন্ট, হার্ডলস, লং জাম্প, হাই জাম্পসহ ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের বিভিন্ন ইভেন্টে তাঁর ছিলো অসাধারণ দক্ষতা ও সফল উপস্থিতি।

মিমুর অসামান্য অবদানের জন্য ২০০০ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান করা হয়।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি কোচ, সংগঠক, ম্যাচ রেফারি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিমু দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ভার্টিগো সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র পুত্র শাহরিয়ার শরীফসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৭৩ সালে দিনাজপুর জেলার হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা এই মিমু ছিলেন স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকের অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব।

জাতীয় পর্যায়ে তার ঝুলিতে রয়েছে ২৭টি স্বর্ণ, ১৩টি রৌপ্য ও ৩টি ব্রোঞ্জপদক। হাইজাম্প ও লংজাম্পে তিনবার জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

১৯৮২ সালে দিল্লি এশিয়ান গেমসে লংজাম্পে সেরা আটের মধ্যে সপ্তম হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেন তিনি।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার খালাতো বোন। তবে সে পরিচয়ে তিনি পরিচিত ছিলেন না। ক্রীড়াঙ্গনে তার পরিচিতি নিজের মেধা এবং কঠোর পরিশ্রমে গড়া।

মিমুর মৃত্যুতে বিকেএসপি, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন, আর্চারি ফেডারেশন ও বাফুফেইসহ বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *