ঢাকা: আমাদের দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী তিনি।
প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আমি পাবনার রাজপথ থেকে বঙ্গভবনে গিয়েছি। আমি ইন্দ্রাপট্টিতে শিক্ষা শান্তি প্রগতি স্লোগান দিয়েছি। আমি টাউন হলে বক্তব্য দিয়েছি, গর্জে উঠেছি।
রাজনীতির এমন অঙ্গন নেই, যা ছুঁয়ে যাইনি। আমি জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুর ছোঁয়া পেয়েছি। ছয় বার বঙ্গবন্ধুর দেখা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু আমার নাম ধরে ডেকে বলেছে, ‘এই চুপ্পু তুই এদিক আয়, এই চুপ্পু তুই মাঠে আয়’।
সেই সাহাবুদ্দিন শকুনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন সংবিধান। আর সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা হতে চলেছে ইউনূসের বিরুদ্ধে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, কারাগারে যেতে হয়েছে। চরম অত্যাচারিত হয়েছি। রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়েছে। হাতকড়া পরানো হয়েছে। রাজপথের সক্রিয় কর্মী হয়ে আমি বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাকশালের পাবনার জয়েন্ট সেক্রেটারি হয়েছিলাম।
তিনি বলেছিলেন, দেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানও করা সম্ভব।
রাষ্ট্রপ্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা একটি সংবিধান পেয়েছি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এই সংবিধান বহুবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে হত্যা করা হয়েছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানি ধারায় সংবিধানকে প্রবর্তন করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর, সংবিধান তার জায়গায় পুনঃস্থাপিত হয়েছে।
সেই সাহাবুদ্দিন সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক হয়েছেন। খুলেছেন ইউনূসের মুখোশ। রক্ষা করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।
ইউনূসের কার্যপদ্ধতি নিয়ে যে তাঁর অসন্তোষ রয়েছে, তা নিয়ে কোনও রাখঢাক করেননি সাহাবুদ্দিন।
তিনি পরিষ্কার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনও বিধান মেনে চলেননি। সংবিধানে বলা আছে, উনি যখনই বিদেশ সফরে যাবেন, সেখান থেকে ফিরে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং আমাকে ওই আউটপুটটা জানাবেন। কী আলোচনা হল, কী হল, কোনও চুক্তি হল কি না, কী ধরনের কথাবার্তা হল— এটা আমাকে লিখিত ভাবে অবহিত করার কথা।
উনি তো বোধহয় ১৪-১৫ বার বিদেশ সফরে গিয়েছেন। একবারও আমাকে জানাননি। একবারও আমার কাছে আসেননি।”
এমনকি আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও ইউনূসের তৎকালীন প্রশাসন তাঁকে কিছুই জানায়নি বলে দাবি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কোনও কিছুই আমি জানি না। এই রকম একটা চুক্তি অবশ্যই আমাকে জানানো দরকার ছিল। এটা ছোটখাটো হোক আর বড় কিছু হোক, অবশ্যই আগের সরকারপ্রধানেরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন। আর এটি হল সাংবিধানিক একটা বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তিনি তো তা করেননি।”
বলেন, “তিনি (ইউনূস) একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি। আমাকে সম্পূর্ণ ভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন।”
সাহাবুদ্দিনের কথায়, ওই দেড় বছর তিনি কোনও আলোচনায় ছিলেন না। অথচ তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ‘চক্রান্ত’ চলছে।
তিনি বলেন, “দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে।” কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকায় কোনও ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি।
