ঢাকা: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিএনপি। আর এই নির্বাচনের ফলাফলে খুশি লেখক তসলিমা নাসরিন।
ফেসবুকে বেশ কিছু কথাই লিখেছেন তিনি।
বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমি খুশি বিএনপি জিতেছে বলে নয়, রাজাকার-জিহাদি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরাজিত হয়েছে বলে। তারা গত দেড় বছর বিকট দাপট দেখিয়েছে, লক্ষ সমর্থক নিয়ে সভা করেছে, দিনে রাতে যখন ইচ্ছে মব সন্ত্রাস করেছে, যাকে ইচ্ছে তাকে হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে, হিন্দু বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে, হিন্দুদের পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, একজন নারীকেও ভোটের জন্য প্রার্থী হতে দেয়নি, এমন চরম নারীবিদ্বেষী দল কর্মজীবী নারীদের বেশ্যা বলে গালি দিয়েছে, নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বলেছে, নারীকে বোরখা আর নিকাবের অন্ধকারে ছুড়ে দিয়েছে, নারীদের দেখেছে পুরুষের ক্রীতদাসি আর যৌনদাসি হিসেবে, নারীবিরোধী শরিয়া আইনের স্বপ্ন দেখা জামাতে ইসলামীকে জনগণ ক্ষমতায় যেতে দেয়নি। এটিই আপাতত সুখবর’।
তবে জিতলেই তো হবেনা, বিএনপির বহু কাজ করণীয় আছে।
তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকাও দিলেন তসলিমা নাসরিন।
এখন বিএনপিকে কী করতে হবে বলে আমি মনে করি।
১ জুলাই সনদ বাতিল করতে হবে।
সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা আনতে হবে।
রাষ্ট্রধর্মকে বিদেয় করতে হবে।
২ ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইন বাতিল করে নারীর সমানাধিকার রক্ষার জন্য সমানাধিকারের ভিত্তিতে অভিন্ন দেওয়ানী বিধি জারি করতে হবে।
৩ বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের ( হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিস্টান , আদিবাসী) নিরাপত্তা, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪ মাদ্রাসা শিক্ষাকে বন্ধ করে সেক্যুলার বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।
৫ নিশ্চিত করতে হবে সবার জন্য শিক্ষা আর সবার জন্য স্বাস্থ্যপরিষেবা।
৬ গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে হবে। এবং তাদের নেতৃবৃন্দ যেন নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে একটি জিহাদি সমর্থিত জামাতে ইসলামিকে রাখা নিরাপদ নয়।
৭ অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি ধনী আর গরিবের মাঝখানের ফারাক কমাতে হবে।
৮ পরিবারভিত্তিক রাজনীতি এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে।
৯ শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্লগার হত্যার কারণে মুক্তচিন্তকরা প্রাণ বাঁচাতে দেশের বাইরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা যেন দেশে ফিরতে পারেন এবং নিরাপদে তাঁদের কাজ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
১০ বাকস্বাধীনতা, প্রেস ফ্রিডম ইত্যাদি লঙ্ঘন করা চলবে না। যে বই, থিয়েটার, সিনেমা এ যাবত নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সব যেন মুক্তি পায়।
১১ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য আবার গড়ে তুলতে হবে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িও আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
১২ নারীদের হিজাব, বোরখা ইত্যাদি যেন কোনও সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলক না করে। বোরখা নিকাব সিকিউরিটির কারণেই যেন নিষিদ্ধ হয়।
১৩ যে জিহাদি সন্ত্রাসীদের জেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাদের যেন ফের জেলে ঢোকানো হয়।
১৪ ভারতের সঙ্গে শত্রুতার সম্পর্ক বন্ধ করে, যেন মিত্রতার সম্পর্ক স্থাপন করা হয় রাষ্ট্র এবং জনগণের স্বার্থে।
১৫ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে যেন মুক্তি দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সমর্থক, শিল্পী সাহিত্যিক সাংবাদিক –যাঁদের কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দি করা হয়েছে, তাঁদের সবাইকে যেন মুক্তি দেওয়া হয়।
