ঢাকা: বিএনপি ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ‘জুলাই সনদ’ একটি ভয়ংকর বিপজ্জনক ‘বিষফোঁড়া’। অবৈধ ও অসাংবিধানিক গণভোট সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র।
“সংবিধান সংস্কার কমিটি”র শপথ বিএনপি নেয়নি! এটাকে রাজাকার গং বলছে, “জুলাই সনদের সাথে গাদ্দারি করেছে বিএনপি!”
গাদ্দারি না, এটি একটি স্মার্ট তৎপরতা হয়েছে।
জুলাই সনদের মতো একটি দেশদ্রোহী, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী, আত্নঘাতী ‘ষড়যন্ত্রিক চার্টার’ ধ্বংস করতেই বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে ভোটের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে ‘নিরুঙ্কুশ’ বিজয় উপহার দিয়েছে!
এটা তো জামাতিদের মাথায় ঢুকবে না।
আর তারেক রহমান যদি সত্যিই এই ‘অভূতপূর্ব’ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ‘দেশদ্রোহী’ শকুনদের হাত থেকে বাংলাদেশকে ‘সুরক্ষা’ করতে না পারেন! তাহলে সেটা কেমন হবে তা অবশ্য জনগণ জানে।
তারেক রহমান সফল হলে, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ‘দেশপ্রেমিক হিরো’ হবেন। সুযোগ বারবার আসে না ।
অবশ্য প্রথম দিনেই একটা সপাটে চড় খেয়েছে জামাত।
বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন৷ তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি৷
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, তবে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন৷
অন্যদিকে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত প্রার্থীরা৷
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র ছয়জন নির্বাচিত এমপিও শপথ নিয়েছেন৷
এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারা৷
এদিকে, সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দেন, তারা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন৷ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হননি৷
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের ফরম যুক্ত হলে, কে এই শপথ পড়াবেন তা নির্ধারিত হলে, তখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া যাবে৷
তিনি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরসিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে সহকর্মীদের জানান৷শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্যের শপথপত্রে সই করেন৷
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বিশাল মনে লেগেছে। তিনি আতঙ্কিত। বলেন, ‘আমরা মনে করি সরকারি দল শপথ না নিয়ে জুলাইকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। এতে জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি’।
বিএনপির থাপ্পর বিরাট লেগেছে।
মাথার চুল ছিঁড়ছেন ড. আলী রিয়াজ থেকে শুরু করে ড. ইউনুস, শফিকুর, ড. আসিফ নজরুলরা।
বিএনপি তো ঠিকই করেছে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আবার শপথ নিতে হবে কেনো?
সংবিধানের কোথাও সংস্কার পরিষদের শপথের কথা নেই। কোন এখতিয়ারে, কোন ভাষায় শপথ নেবে? আলী রিয়াজ প্যাঁচ লাগিয়ে দেশটাকে বিভক্ত করতে চান। সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য আলী রিয়াজকে আটক করা হোক। দাবি জনগণের।
বিএনপি’ এমপিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেবার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে জনগণ।
আবেগ দিয়ে সবকিছু চলে না।
বর্তমান সংবিধানে ’সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই।
সংবিধানে যার কোন অস্তিত্বই নেই, সেটার উপর কিভাবে শপথ হবে?
বিএনপি’র দাবী যৌক্তিক; জামায়াতের দাবী আবেগী। বিএনপি অসাংবিধানিক ও অবৈধ সংস্কার পরিষদ পরিহার করায় চোর ইউনুস দলের ১৮ মাসের এত কষ্টের অবৈধ জুলাই সনদের ফানুস ফেটে গেছে।
