ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত ১৬ মাসে যে বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি আর ক্ষমতার অদ্ভুত খেলা দেখা গিয়েছে—তার সবচেয়ে ভয়ংকর দুটি নাম এখন সবার মুখে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া এবং মাহফুজ আলম।

মাহফুজ তো এই জঙ্গী আন্দোলনের মূল কাণ্ডারি, যাকে ইউনূস স্বয়ং পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

এঁদের দুর্নীতির এই দুই বস্তার ভার কে নেবে? কোন দল নেবে? আর কেনই বা নেবে? কোনো স্বার্থ আছে?

গোটা বাংলাদেশের ইতিহাসে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার মতো ধুরন্ধর আর নেই।

দেড় বছরে সব গুছিয়ে নিয়ে গদি ছেড়েছেন আরও বৃহৎ পরিসরে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতার স্বাদ পাবার জন্য।

একদল উগ্র ছেলেপেলেকে পেলেপুষে বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে গেছেন!

সশস্ত্র যুদ্ধের নামে অস্ত্র সংগ্রহ, বিতরণ, প্রশিক্ষণ, লোক ঢোকানো কি করে নাই সজীব? তদবির, নিয়োগ, কেনাকাটা বাণিজ্য, বরাদ্দ, অর্থ লোপাট, চাঁদাবাজি, সব করেছে!

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে যুব অধিকার পরিষদ।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের আগে দুদকের সামনে ‘ছাত্র–জনতা’র উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে দাবি তোলা হয়—আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমকে গত ১৭ মাসের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে হবে।

যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগ আমলে না নিয়ে এদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিলে দুর্নীতি দমন কমিশন ঘেরাও করা হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, মাহফুজ আলমের পিএস ও এপিএস দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মামুন আরও দাবি করেন, উপদেষ্টাদের পরিবারের সদস্যরাও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন।

একটি কথা না বললেই নয়, বিনা ভোটের উপদেষ্টা হয়ে ক্ষমতা উপভোগ করার পর সাথে সাথেই নির্বাচনে অংশ নেয়া অনৈতিক। সেই অনৈতিক কাজই করতে চায় এই ছাত্র উপদেষ্টারা।

স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বুধবার বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা পত্র গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পদত্যাগ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আসলে পদত্যাগ করেও আসলে পদত্যাগ করেননি তারা।

পদত্যাগের আবার শর্ত?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *