ঢাকা: একুশে বইমেলায় আর সেই প্রাণের আনন্দ নেই। না আছে পাঠকের মনে না আছে লেখক-প্রকাশকদের মনে।

তিন পক্ষের এরকম মিলনমেলা তো সারা বছরের অন্য কোনো সময় হয় না। কিন্তু তবুও আজ সব কেমন যেন হয়ে গেছে মৌলবাদীর আগ্রাসনে।

আনন্দটা ম্লান হয়ে গেছে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের কারণে। তবে মৌলবাদী, উগ্র ধর্মান্ধদের তাণ্ডব আর এখন অনাকাঙ্ক্ষিত নয়। বইমেলা এলেই মনে পড়ে যায় অভিজিতের কথা। এক যুগের যেন পরিসমাপ্তি ঘটে যায় এক লহমায়।

এখন আর মেলাটি স্রেফ বইমেলা নেই, হয়ে গেছে রাজনীতির অংশ। জাতীয় রাজনীতিতে যেরকম অসহিষ্ণুতা, তারই প্রকাশ ঘটছে বইমেলায়ও।

লেখককে বা প্রকাশককে মত প্রকাশে বাধা দেওয়া হয়। এগুলো আসলে কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।

এইবার বইমেলা শুরু হচ্ছে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে।

ব‌ইমেলা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন লিখেছেন:

‘ফেব্রুয়ারি মাসটাই ছিল বইয়ের মেলার মাস। এই বইমেলা আমার কৈশোরে তারুণ্যে ছিল প্রাণের মেলা। এখন বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিবিরোধী লোকেরা এসে ফেব্রুয়ারির বইমেলা বন্ধ করেছে।

শুনেছি আজকাল নাকি ইসলামী বইয়ের স্টলে ছেয়ে গেছে মেলা। আমাদের সময় এসব উদ্ভট স্টল দেখিনি।

আসলে ধর্ম যদি একটা সমাজকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে, তাহলে সংস্কৃতি এমন কঙ্কালসার হয়ে ওঠে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন ২৫ তারিখ থেকে শুরু হবে মেলা, প্রকাশকদের স্টল ফ্রি দিচ্ছেন। খুব ভাল প্রস্তাব। তবে মেলাকে যেন ইসলামী বইয়ের মেলা না বানানো হয়।

ধর্মের বই বিক্রি করার জন্য মসজিদ বা মসজিদের আশেপাশের চত্বরই ভাল। বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা পিতৃক্রোড়ে’।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *