ঢাকা: জনাব ইউনূস একদম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। চিরস্মরণীয় দুই কারণে হয়, এক ভালো, এক খারাপ।
জঙ্গী ইউনূস তো খারাপের চাইতেও যদি আরো কিছু থাকে, তিনি সেটা। অশান্তির জনক যা করে গিয়েছেন দেশটার, তার ফল এখনো ভুগছে জনগণ।
তিনি জাতির জন্য অনেক কিছুই করেছেন যা জনগণ প্রত্যক্ষ ও হাড়েহাড়ে অনুধাবন করেছে: যেমন মবতন্ত্র, মববাজি, সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধ্বংস, আইন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রবর্তন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, জঙ্গিবাদী, মৌলবাদী, ধর্মব্যবসায়ী, স্বাধীনতা বিরোধীদের উত্থান, বিচার বিভাগসহ রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংস।
তালিকা আরো করলে আরো আছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন প্রধান উপদেষ্টার শপথ নিয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন—‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে’।
কিন্তু দেখা গেছে আইন তার নিজের গতিতে নয়, বরং ড. ইউনূসের ‘ইচ্ছার গতিতে’ চলেছে।
সাধারণ মানুষ যখন বছরের পর বছর ছোটখাটো মামলার ঘানি টানছে, তখন ক্ষমতার মসনদে বসে ড. ইউনূস নিজেকে সব ধরণের আইনি দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত করেছেন। ৬৬৬ তো শয়তানের নাম্বার হয়ে আছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছেন অপদেষ্টারা।
ড. ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশ এক জঘন্য পর্যায়ে চলে যায়।
মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা পরানো, জাতীয় স্মৃতিসৌধে অবমাননা এবং মাজার-মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, ধানমন্ডি ৩২ এ আক্রমণ, একটারও বিচার হয়নি। ঘটনাগুলো ঘটেছে তাঁর নাকের ডগায়।
তিনি একবারের জন্যও এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেননি। বিএনপিও নিচ্ছে না।
এবার সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, বিচার বিভাগকে আরো কত চরম খারাপ করা যায়, সেই কাজটাই করেছেন ড. ইউনূস।
এক গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
আনিস আলমগীর বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিশেষ করে নিম্ন আদালতের স্বাধীনতা সরকারের হাতে রয়ে গেছে বহু বছর থেকে। স্বাধীনতার পর থেকেই তারা নিজেদের মতো কিছু করতে পারে না।
বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তারা সরকারের ইশারায় পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ভুয়া মামলাতে বিচার বিভাগ যখন কোনো আসামিকে জামিন দিচ্ছে, আসিফ নজরুলের মতো বাটপাড় আবার তাদের শাসায় যে, ‘কি করে আপনারা জামিন দেন এদেরকে, স্বৈরাচারের দোসরদেরকে?’
তিনি আরো বলেন, ‘দুদককে আপনি শক্তিশালী করতে চান, কিন্তু আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে আপনি আবার দুদকের একটা মামলা দিয়ে দেন। একটা ভুয়া মামলায় আপনি আমাকে গ্রেপ্তার করেন সন্ত্রাসী হিসেবে, আবার আরেকটাতে দিয়ে দেন দুদকের মামলা।’
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, ‘ইউনূস নিজে যেখানে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করেননি, এখন বলছেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা।
প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকাকালে তিনি ১৪ বার বিদেশ সফর করেছিলেন। ফিরে এসে একবারও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেননি। তিনি বলছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভারসাম্যের কথা।’
তিনি বলেন, ‘ইউনূস নিজে যত বাটপাড়ি করেছে, সেই বাটপাড়িটা নিজে স্বীকার করেন না।
সে আবার গণতন্ত্র শিখাতে এসেছে, সংস্কার শিখাতে এসেছে। মানুষ যখন রাস্তায় নামবে, তখন তাকে জিজ্ঞেস করবে। এসএসএফ ছাড়া তিনি যেন রাস্তায় নেমে আসেন। এনসিপির দাবির সঙ্গে যাতে রাজপথে থাকেন, সেটা আমি চাচ্ছি।’
