ঢাকা: দেশ জ্বলে খাক হয়ে যাচ্ছে, খাক করে দিয়েছে জুলাই জঙ্গীরা, আর তাদের জন্য মারাত্মক দয়া উপচে পড়ছে আসিফ নজরুলের।

যারা নিজেরা স্বীকার করছে থানা পুড়িয়েছে, পুলিশ ঝুলিয়ে রেখেছে তাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

বানিয়াচং থানা তারা পুড়িয়েছে। এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে। এই কথাগুলো থানার ভেতরে, পুলিশ অফিসারের সামনে, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে, ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া অবস্থায় বলেছে এক তথাকথিত জুলাই যোদ্ধা।

এরা যোদ্ধা? সন্তোষ চৌধুরীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ঘটনা।

শুধু তিনিই নন, এরকম আরো বহু। এবং এখনো এরা দেশকে হত্যা করছে। দেশের মানুষ হত্যা করা মানে দেশ হত্যা করা।

ইউনুসের তথাকথিত সরকার যে শুধু অদক্ষ আর অযোগ্য তা নয়, তারা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সারাদেশে যে দাঙ্গা সংগঠিত হয়েছিল, যেখানে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি পোড়ানো হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে, সেই দাঙ্গা ছিল সুপরিকল্পিত।

বিদেশি অর্থায়ন ছিল, জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা ছিল, সামরিক বাহিনীর একটা অংশের মদদ ছিল। একটা নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

আর তারপর ক্ষমতায় বসানো হয়েছে মুহাম্মদ ইউনুসকে, যার কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই, যার কোনো জনসমর্থন নেই, যিনি মূলত একজন সুদী মহাজন ছাড়া আর কিছু নয়।

যারা জুলাইয়ের দাঙ্গায় নেতৃত্ব দিয়েছে, যারা খুন করেছে, লুটপাট করেছে, তাদের এখন রাজা বানানো হয়েছে।

দায়মুক্তি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়।

শিগগির এটি অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

এই জামাতি আসিফ নজরুল বাংলাদেশকে নাটকের মঞ্চ বানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি’ শীর্ষক ওই পোস্টে আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘জুলাই যোদ্ধারা জীবন-বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছিল। অবশ্যই তাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার খুনিদের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম করেছিল সেজন্য তাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনও রয়েছে।’

পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ। আরব বসন্ত বা সমসাময়িককালে বিপ্লব (বা গণঅভ্যুত্থানে) জনধিকৃত সরকারগুলোর পতনের পর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের দায়মুক্তির আইন হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তির আইনের বৈধতা রয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি আইন হয়েছিল।’

আইন উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, ‘এসব নজীর ও আইনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় দায়মুক্তি অধ্যাদেশের একটি খসড়া তৈরি করেছে। ইনশাআল্লাহ্ আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’

জুলাই নিরাপদ রাখলে তো তাদের লাভ। জুলাই নিরাপদ রাখা মানে অবৈধ বসবাস।

বাংলাদেশ- যেখানে অপরাধীরা ক্ষমতাবান, আর সাধারণ মানুষ অসহায়। যেখানে খুনিরা রাস্তায় মিছিল করে, আর পুলিশ নিজেদের সহকর্মীর হত্যাকারীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

যেখানে সরকার বলতে কিছু নেই, আছে শুধু একটা অবৈধ কাঠামো যা টিকে আছে জনতার ভয়ে, দাঙ্গাবাজদের দয়ায়। এই বাংলাদেশে আইনের শাসন মরে গেছে। এখন চলছে মবের শাসন। এই তো জুলাই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *