ঢাকা: বাংলাদেশের বই বাজারটা নষ্ট হয়ে গেছে। ইসলামিস্টদের হাতে চলে গেছে! বই প্রকাশনীতে এখন ডানপন্থী ইসলামিক ঘরনার প্রকাশনীর সংখ্যা বেশি।
ফিকশন, কবিতা, অন-ফিকশন লাইনে তরুণ প্রজন্মের ইসলামিস্টরা মাঠ দখল করে আছে। লেখার মান আর নাই বা বললাম।
বাড়ছে রিল, কন্টেন্ট, ইসলামিস্ট কমছে ভালো বই বিক্রি।
বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো থেকে রুশদীর ফাঁসি চাই মিছিল বের হচ্ছে তখন আর শেখার কী থাকে?
এখন হাদির বই প্রচার হয়। বই নিয়ে কনটেন্ট বানায়, রিল বানায়।
একুশের উত্তরাধিকার যাদের না, বইমেলা তাদের হাতে কতটা নিরাপদ? ষোলো দিনে বিক্রি হয়েছে মাত্র দুই হাজার টাকা।
আনন্দলোক প্রকাশনীর সংখ্যাটা শুনে মাথায় হাত পড়বে সবার। চিলেকোঠায় পুরো একটা দিন একটাও বই বিক্রি হয়নি।
বায়ান্ন প্রকাশনীর বিক্রি গত বছরের ছয় ভাগের এক ভাগেও পৌঁছায়নি। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা একটা সিস্টেমেটিক ধ্বংসের ছবি।
অনেকে আবার মনে করছেন রোজার জন্য মানুষ নেই, পাঠক নেই। এটা ভুল।
একুশের বইমেলার জায়গাটা বাংলাদেশের বুকে, এটা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা না।
১৯৫২ সালে যারা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন, তাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে আছে এই উৎসব।
সেই আন্দোলনের মূলে ছিল একটাই কথা, বাঙালির ভাষা, বাঙালির সংস্কৃতি, বাঙালির পরিচয়কে কেউ মুছে দিতে পারবে না।
সংঘর্ষ এখানেই। সেই ইতিহাসের সঙ্গে যারা কখনো সম্পর্ক রাখেনি, যারা একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়ে এই বাংলার মানুষ মেরেছে, তারাই আজ এই দেশের সংস্কৃতির ভাগ্য নির্ধারণ করছে।
আবার সংসদেও বসে আছে। পাকিস্তানি জামায়াতে ইসলামী।
১৬ দিন ধরে মেলা চলছে। বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকার মতো।
’ এই আক্ষেপ নিয়ে এমনটাই বলছিলেন আনন্দলোক প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ গালিব সোহান।
প্রতিবছর অমর একুশে বইমেলার শেষ সপ্তাহে পাঠকের ভিড়ে হাঁটতেই বেগ পেতে হতো। আর এখন?
সাহিত্য, সংস্কৃতি তো উঠেই যাবে দুইদিন পর পরিস্থিতি এমন হয়েছে।
একটা রাষ্ট্র তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে কতটা গুরুত্ব দেয়, সেটা বোঝা যায় সে রাষ্ট্র কারা চালাচ্ছে তা দেখলে।
হুমায়ূন আহমেদ, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল আগে তাঁরা ছিলেন আইডল। জাফর ইকবাল তো রীতিমত বাচ্চাদের, কিশোরদের আইডল ছিলেন। আর এখন?
একটি শিশুকে প্রশ্ন করা হয়, বড় হয়ে কী হতে চাও? সে উত্তর দিলো: বড় হয়ে হাদির হবো, ভারতকে মারবো! ভেবে দেখুন।
যে রাজনৈতিক জোট একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তারা আর কী বইমেলা হতে দেবে?
একটা বিপর্যয় নামছে খুব শীঘ্রই।
