ঢাকা: সহিংসতা ও জঙ্গী আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে চাঁদাবাজি চলমান রয়েছে।

যে যেভাবে পারছে, যেদিক দিয়ে পারছে লুটছে। বাধা কেউ দেবে না! সবাই লুটেরা।

রীতিমতো প্রাণের ভয় দেখিয়ে লুটে নিয়ে যাচ্ছে মালামাল। করছে চাঁদাবাজি।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে, মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছে এনসিপি, জামায়াত-শিবির, বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ ইউনূস সরকারের ঘনিষ্ট নানা রাজনৈতিক ও প্রেশার সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।

সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণির মানুষ চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

গত কয়েক মাসে দেশের বড় শহরগুলোতে ব্যবসায়ীদের ওপর চরম সন্ত্রাসী হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

রাজধানীর পল্লবী অঞ্চলের এক ব্যবসায়ী সম্প্রতি এ ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তাঁকে ফোনে বা সরাসরি জানায়, “তুই বড় ব্যবসায়ী। পাঁচ কোটি টাকা দিবি আমাদের, নইলে মাইরা ফালামু। বাঁচবে না তোর পরিবার।”

এবং সেই চাহিদা মতো টাকা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ীর পায়ে গুলি চালায়। এতে তিনি শারীরিকভাবে আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েছেন।

এটি তো একটি উদাহরণ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গত বছরের ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজির ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে।

চাঁদাবাজির ফলে ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ কমেছে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান থমকে গেছে এবং সাধারণ মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি হলেও ভুক্তভোগীরা আইনের কাছ থেকে প্রতিকার পাচ্ছেন না। চাঁদা না দিলে তাদেরকে ফ্যাসিস্ট ট্যাগ দিয়ে পুলিশে তুলে দিচ্ছে চাঁদাবাজরা।

মানবাধিকার কর্মীরা এই নিয়ে নিন্দা ও বিবৃতি দিলেও ইউনূস সরকার এসব ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *