ঢাকা: পাঠ্যবই সিন্ডিকেট, পোলট্রি শিল্প সিন্ডিকেট, কাগজ সিন্ডিকেট, তেল সিন্ডিকেট – এই দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন সিন্ডিকেট! সুযোগ পেলেই কোপ মারে। সততা, নিষ্ঠা সব শেষ। এখন চাই শুধু ক্ষমতা আর টাকা।
সিন্ডিকেটের কবজায় পড়েছে দেশের পোলট্রি শিল্প। জনগণ বাজারে গেলেই বুঝতে পারছে কী অবস্থা চলছে।
গত ৭ মাসে মুরগি ও ডিমে লোকসান গুণছেন প্রান্তিক খামারিরা। এবার বাজার রক্ষায় ৬ দফা দাবি জানাল বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন।
উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারে দাম কম থাকায় গত সাত মাস ধরে প্রান্তিক খামারিরা ভয়াবহ লোকসানের মুখে পড়েছেন, যা এই খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে বলে দাবি। এভাবে বহু খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পোলট্রি শিল্প নিয়ে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিএর সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার জানান, কয়েকটি বড় কর্পোরেট গ্রুপ, তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কিছু অসাধু সদস্যরা মিলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
বক্তারা বলেন, ‘পোলট্রি খাতে কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
যেখানে একটি বাচ্চার দাম সাধারণত ৩০ টাকার মধ্যে থাকার কথা, সেখানে কিছু কোম্পানি তা ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।’
বিপিএ নেতা সুলতান হাসান বলেন, ‘আমরা লোকসান করতে করতে ভিটেমাটি সব হারিয়েছি। পরিবার নিয়ে চলতে পারছি না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই আমাদের প্রণোদনা দিন। আমাদের পাশে দাঁড়ান।’
পোলট্রি শিল্পকে রক্ষা করতে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
বিপিএর ৬ দফা দাবি:
১. প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান।
২. সিন্ডিকেট ও কর্পোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. পোলট্রি খাদ্য, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
৪. প্রান্তিক খামারিদের জন্য ন্যায্য মূল্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৫. বাজারকে স্থিতিশীল ও সিন্ডিকেটমুক্ত রাখা।
৬. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা দেওয়া।
