ঢাকা: বর্তমানে এই দেশে নতুন নতুন বহু কিছু শুনতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের নাম মুছে, বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে তরুণ প্রজন্মের কাছে গোলাম আযমকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য জামাত শিবির মহল কাজ করছে।

গোলাম আযম একজন পরীক্ষিত রাজাকার।

বিগত ৭৪ বছরের ইতিহাসে আজ প্রথম জামাতি ইসলাম শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিল।

ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো এদের উদ্দেশ্য ছিল না, এদের উদ্দেশ্য ছিল রাজাকারদের সর্দার গোলাম আযমের নামে স্লোগান দিয়ে মব সৃষ্টি করা। গোলাম আযমের নাম নতুন করে মুখে আনা।

জামাতি উগ্রপন্থীরা ভুলে গেছে পশ্চিম পাকিস্তানে এক সংবর্ধনায় জামায়াত নেতা গোলাম আযম বলেছিলেন,

“উর্দু পাক ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা। ৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি তাতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তা ভুল হয়েছিলো।”

(সোর্স: তৎকালিন দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় প্রকাশিত খবর)

গোলাম আজম বলে গিয়েছিলেন শহীদ মিনারে যাওয়া হারাম। এদের সব কিছুই বাটপারিতে ভরা।

“ভাষা সৈনিক গোলাম আযম, লও লও লও সালাম” দেশটাকে সার্কাস বানিয়ে ছেড়েছে এরা।

গোলাম আযম যদি ভাষা সৈনিক হয় এতই দেশ প্রেমিক হয় বাংলা ভাষার প্রতি এতই ভালোবাসা থাকে এই জাতিকে ভালোবেসে থাকে তাহলে তিনি কেনো স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন!! এর জবাব আছে জামাতিদের কাছে?

একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের প্রধানতম দোসর ছিল জামায়াত ইসলামীর আমির গোলাম আযম।

গোলাম আযম পাকিস্তানী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যতম রূপকার।

তার দল জামায়াতে ইসলামী ও তার অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমানে ইসলামী ছাত্র শিবির) মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা স্বাধীন বাংলাদেশে পুর্নবাসিত হয়।

গোলাম আযমকে পুর্নবাসিত করার উদ্দেশ্যে কিছু প্রোপোগান্ডা শুরু হয়। যেটা এখন আবার শুরু হয়েছে।

গোলাম আযম একজন ভাষা সৈনিক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

১৯৭০ সালের ২০ জুন দৈনিক আজাদ পত্রিকার পঞ্চম পাতায় একটি প্রতিবেদন দেখা যায়, গোলাম আযম নিজেই বলছে যে, বাংলা ভাষা আন্দোলন একটি ভুল ছিল।

গোলাম আযমের বক্তব্য ছিল-

মুছলমানদের অধিকাংশ তম্মুদিন ও ধর্মীয় জ্ঞানের ভাণ্ডার উর্দু ভাষায় সংরক্ষিত রহিয়াছে।জাতীয় ভাষার প্রশ্ন উঠার পর পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিকোন থেকে তাহা মোটেও সঠিক কাজ হয়নি।কারণ উর্দু ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত এবং পাক ভারতের সকল প্রদেশের মুছলমানরা উহা বুঝিতে পারে।উর্দু হচ্ছে এমন একটা ভাষা যার মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার উপযুক্ত প্রচার ও প্রসার সম্ভব।উর্দু পাক-ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা এবং এতে তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পদ সংরক্ষিত রয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *