চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শ্বাসনালী কেটে হত্যার মূল আসামি বাবু শেখ (৪৫) কে গ্রপ্তার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার করলে কী হবে? দেশের সরকার, প্রশাসনের ওপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে গেছে। উঠে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।
মঙ্গলবার সন্ধা ৭ টায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিং এ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহম্মেদ খাঁন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত বাবু শেখকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইরার বাবা মনির হোসেন এর সাথে তাঁর (বাবু শেখ) পারিবারিক বিরোধ ছিল।
বিরোধের জেরে তার মেয়েকে মেরে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
তবে পারিবারিক বিরোধ থাকুক আর যাই থাকুক, জামাত শিবির রাজাকার, ধর্ষকরা কোনোদিন মানুষ হবে না। এটা তার আবারো প্রমাণ।
পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও রাজনৈতিক বিষয়টি? ধর্ষক ও খুনি বাবু শেখ জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত-একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বাবু শেখ হলো জামায়াতে ইসলামের সক্রিয় কর্মী। আওয়ামী লীগের সময়ে এই লোকের আরেকটা শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিলো।
কিন্তু পাঁচ আগস্ট জামাত-শিবির সহ দেশবিরোধী চক্রের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার পর পর জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রভাব খাটিয়ে তাকে জামিনে বের করে আনে।
এখানে আরেকটা তথ্য জানতে পারা গিয়েছে- পারিবারিক বিষয়টি উল্লেখ বা প্রকাশিত হলেও ভেতরে ছিলো ভিন্ন ও গভীর ষড়যন্ত্র।
সূত্র জানিয়েছে, পার্কটা সীতাকুণ্ড মন্দিরের কাছেই। জামাত-শিবিরের লোকজন হিন্দুরা মন্দিরে নিয়ে ইরাকে বলি দিয়েছে এমন একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র করছিলো। কিন্তু পারেনি গ্রেপ্তার হবার ফলে।
এই নিয়ে লোকজন লিখছে। রোজা রমজানের মাস এখন নেই জামাতের?
ইতিহাসের নিকৃষ্ট এসব লোকজন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেও অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসতে পারলো না। এখন আবার আগের রূপে ফিরে গিয়েছে।

নামাজ পড়ে কপালে দাগ ফেলেছে। তারপরও রোজার মাসে একটা বাচ্চা মেয়ে তার লালসা থেকে রেহাই পায়নি। এরা মানুষ?
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “এই লোকটি ইরাদের প্রতিবেশি। নাম বাবু শেখ। পাঁচ বেলা নামাজ পড়েন। মেঝেয় কপাল ঠুকতে ঠুকতে কপাল কালো করে ফেলেছেন। রোজার মাসে ৩০টি রোজা রাখেন।
মসজিদে গিয়ে জুম্মার নামাজ পড়েন প্রতি শুক্রবার। তাহাজ্জুদও পড়েন। বাবু শেখ ইরা’কে পার্কে নিয়ে গেছেন। পরহেজগার প্রতিবেশি তো একটি শিশুকে ভালবেসে নিতেই পারেন বেড়াতে।
কিন্তু পার্কে গিয়ে কী করলেন রসুলের এই উম্মত? তিনি ধর্ষণ করলেন শিশুকে। শিশুকে রক্তের বন্যায় ভাসালেন। তারপর শিশুটি যখন চিৎকার করছিল ভয়ে, যন্ত্রণায়, তখন পকেট থেকে ছুরি বের করে জবাই করলেন শিশুটিকে।
শিশুটিকে জবাই করার জন্যই ছুরি এনেছিলেন তিনি। কোরবানির গরু জবাই করতে করতে হাত পাকিয়েছেন।
শিশুদের জবাই করলে তাঁর যৌনানন্দ হয়। শিশুদের কান্না শুনলেও যৌনানন্দ হয় তাঁর। তাঁর ধারণা ছিল শিশুটি মরে পড়ে থাকবে জঙ্গলে। কিন্তু শিশুটি বাঁচার চেষ্টা করেছিল। রক্তে স্নান করেও বাঁচার চেষ্টা করেছিল।
কাটা গলাটি দু’হাতে চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করতে চাইছিল। নবীর সুন্নত পালন করা এই উম্মতটি শিশুটিকে বাঁচতে দেননি। তিনি জানেন, শিশু-ধর্ষণ আর শিশু-হত্যার পর আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে করুণাময় আল্লাহ বান্দাদের মাফ করে দেন।
তিনি বিশ্বাস করেন আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে নেবেন, অতঃপর জান্নাতের হুরদের তিনি অনন্তকাল ধর্ষণ করবেন”।
