ময়মনসিংহ: হিন্দু পুড়িয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, কবর থেকে উঠিয়ে লাশ পোড়ানো হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থানে আগুন ধরানো হচ্ছে! এ কোন পৈশাচিক রূপ বাংলাদেশের?
ময়মনসিংহের ঘটনা শিউড়ে ওঠার মতো!
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা এটি।
লেখক তসলিমা নাসরিন তীব্র প্রতিবাদ করেছেন এই ঘটনার।
ফেসবুকে তিনি লিখেছেন:
“এক জিহাদির মৃত্যুতে লক্ষ জিহাদি সারা বাংলাদেশ জুড়ে তাণ্ডব করেছে। যা কিছু পেয়েছে ভেঙে টুকরো করেছে। সবকিছু জ্বলিয়ে পুড়িয়ে ছাই করেছে।
ভালুকার যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে মেরে গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়েছে জিহাদিরা। না, কারও দুঃখ হয়নি, কারও হাত কাঁপেনি, কারও মন কাঁদেনি”!
এই ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য, তারা নিহতের নিকটজনের সন্ধান করছেন। তারা অভিযোগ দায়ের করলে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হবে।
আসলে পুলিশকে কন্ট্রোল করে রেখেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তো হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন রীতিমতো পুলিশ প্রশাসনকে।
পুড়িয়ে মারার সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেয়া হয়েছে। মানুষ হতভম্ব, কী ঘটছে?
বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকশো মানুষের সামনে একদল উগ্রবাদী ওই যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
ভয়াবহ দৃশ্য। এমন ঘটনা নিয়ে পুলিশ স্বয়ং প্রণোদিত হয়ে কেন মামলার রুজু করে তদন্ত শুরু করছে না সেই প্রশ্নে উত্তাল সমাজমাধ্যম। ঘটনার সময় পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পৈশাচিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায়। নিহতের নাম দীপুচন্দ্র দাস। তিনি ওই উপজেলার ডুবালিয়া পাড়ার বাসিন্দা।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি ইসলামের নবী মহম্মদ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন!
যদিও কোথায় কখন নবীকে অবমাননা করেছেন সে ব্যাপারে কেউই স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে প্রথমে কারখানা থেকে বের করে মারধর করা হয়। তারপর অর্ধমৃত অবস্থায় গাছে ঝুলিয়ে আবার লাঠিপেটা করার পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
