খুলনা: বিদ্বেষের বাংলাদেশ! এই বাংলাদেশের উগ্র মুসলমানরা সংখ্যালঘু হিন্দুদের গলা কেটে, পুড়িয়ে হত্যা করছে। আইন চুপ, সরকার চুপ, প্রশাসন চুপ। শুধু তাকিয়ে দেখে! কী অদ্ভুত!

আর পুলিশ কী করবে? পুলিশ নিজেও খুন হয়ে যাচ্ছে, পুলিশের পরিবার খুন হয়ে যাচ্ছে!

বাংলাদেশের পাইকগাছা উপজেলা থেকে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এক হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে।

রবিবার ১৫ মার্চ সকালে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ভারতী মণ্ডল নামে একজন হিন্দু বৃদ্ধার গলা কাটা দেহ।

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) চিন্ময় মন্ডলের মা ভারতী মণ্ডল।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার লতা ইউনিয়নের পুতলাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের ধারণা।

পরিবারের অভিযোগ, ছেলের পেশাগত ভূমিকার জেরেই প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, একদল ইসলামপন্থী দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে মায়ের দেহ পুকুরে ফেলে দেয়।

একজন মাকে হত্যা করলো নরপিশাচেরা। ওদের কাছে মা বোন নেই। হিন্দু হলেই হলো।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী,  রাত থেকেই ভারতী দেবী নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সারা রাত খোঁজাখুঁজি করেও কোনও সন্ধান পাননি।

ভোরে গ্রামের এক ব্যক্তি পুকুরে ভাসমান দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসীরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

হিন্দু পরিবারটির অভিযোগ— “আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা কি এই দেশে বাঁচতে পারব না?”

প্রতিবেশী শিক্ষক পবিত্র কুমার মণ্ডল জানান, ভারতী মণ্ডল সম্পর্কে তাঁর বৌদি হন। তিনি বাড়িতে একা থাকেন।

ছেলে চন্ময় মণ্ডল শরণখোলা থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত। পবিত্র কুমার বলেন, ‘রাতে দুর্বৃত্তরা ভারতী মণ্ডলের ঘরে ঢুকে আসবাব তছনছ করে স্বর্ণের গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। এ সময় হয়তো বৌদিকে হত্যা করে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। সকালে আমরা পুকুরে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিই।’

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা আরো বেড়েছে।

বিভিন্ন হিন্দু অধিকার সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতেই ২০০-র বেশি হামলার অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

তবে হিন্দুরা এই দেশে কোনোদিন নিরাপত্তা পায়নি। এটা লিখিত সত্য। সরকার তাদের ভোটের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে কেবল। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কিছুটা দমন ছিলো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *