সুনামগঞ্জ: যারা দেশটা স্বাধীন করলেন, দেশের মানুষকে শান্তির সূর্য দেখালেন সেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের স্বাধীন করা দেশটাতেই আর বাস করতে পারছেন না।
ইউনূসের আমলের তো জুতার মালা পরানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধার গলায়, সরকার পরিবর্তন হলো কিন্তু জঙ্গীরা রয়ে গেলো।
৫ ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, নির্যাতিত।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঁদা না পেয়ে যুবদল নেতার নেতৃত্বে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নিজাম উদ্দিন, সিহাব মিয়া ও মজনু মিয়ার লোকজনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, অভিযুক্ত রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন।
স্বাভাবিক বিষয়, মুক্তিযোদ্ধা ও হিন্দু মানেই মনে করে নিতে হবে বাড়িঘর ভাঙচুর করা অবস্থায় আছে। সব সময় এটি মনে রেখেই জীবন যাপন করতে হবে যে আমার সবকিছু ভাংচুর, ছিন্নভিন্ন, আগুনে পোড়া।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বলতে কিছুই নাই, হিন্দু সম্প্রদায় বলতে কিছুই নাই এই দেশে। রাখা হয়নি।
থাকলে যারা মুক্তিযোদ্ধাকে জুতার মালা পরিয়ে ছিলো, যারা রাস্তাঘাটে মুক্তিযোদ্ধার গায়ে হাত উঠিয়েছে—তাদের বিচার হতো সবার আগে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খান দেশ স্বাধীনের পর থেকেই ইসলামপুর গ্রামের সরকারি জায়গায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
পরে সরকারের পক্ষ থেকে ওই জায়গায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খানের নামে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেওয়া হয়।
এদিকে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নিজাম উদ্দিন ওই জায়গা দখলের অপচেষ্টা করতে থাকে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খানের বড় ছেলে আব্দুল গফফারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
পরিবারটি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। থানায় তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও করা হয়।
তারপরেই, রবিবার নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিএনপি তো মুক্তিযোদ্ধা কোটা খেলে নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করেছে। এখন সরকার কী ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার।
