ঢাকা: সদ্য সাবেক উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের দেয়া সাক্ষাৎকারে ইউনূস সরকারের কিচেন কেবিনেটের কথা বলেছেন।
পুরো প্রশাসনের পিওন থেকে সচিব সব নিয়োগ বদলী হতো কিচেন কেবিনেটের সিদ্ধান্তে। ঘুষের টাকার ভাগবাটোয়ারা হতো এই কিচেন কেবিনেটের মধ্যে।
গোয়েন্দাদের সন্দেহ, জুলাই যোদ্ধা হাদি হত্যাকান্ডের মাষ্টারমাইন্ডও এই কিচেন কেবিনেট। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো দেশকে আরো অস্থিতিশীল করে নির্বাচনকে ভন্ডুল করে দেয়া।
কিচেন কেবিনেটের প্রধান ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শুভ্র,আসিফ নজরুল, রেজোয়ানা হাসান। এবং তাদের মুখপাত্র ছিলেন, শফিকুল আলম।
গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিদায়ী সরকারের দেড় বছরের কার্যক্রমের বিভিন্ন অজানা অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হয়েও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে অজ্ঞাত ছিলেন বলে অনুযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচন পদ্ধতি বা রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে সরকারের কেউ আমার কোনো পরামর্শ চায়নি। আমি তাদের কনসালট্যান্ট ছিলাম না।’
২০২৪ সালের অগাস্টে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশের ব্যবহৃত ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বোরের রাইফেল এবং এর যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে কথা বলে আলোচিত হয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘পুলিশের এই মারাত্মক মারণাস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে কীভাবে গেল, তা নিয়ে আমি তদন্ত করতে চেয়েছিলাম। ভিডিওতে দেখেছি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের শারীরিক গঠন ও চেহারা আমাদের দেশের মানুষের মতো ছিল না।’
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই অস্ত্র ও স্নাইপাররা হয়তো ‘বহিরাগত’ ছিল। তবে কোনো তদন্ত করার সুযোগ পাওয়ার আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শ্রম ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত-আট দিনের মাথায় তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বলেছিলেন, ‘আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না, থাকলে আপনিও বিব্রত হবেন।’ তবে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধ ও আশ্বাসে তিনি শেষ পর্যন্ত থেকে যান।
