চট্টগ্রাম: মাতৃভাষা সকলের অধিকার। আদিবাসীদের নিজের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করার অধিকার আছে।

সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আদিবাসীদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন।

আজ শনিবার, বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চবি শাখা ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অনেকেই বক্তব্য রেখেছেন। ভাষা নিয়ে অনেকেই অনেক বক্তব্য রেখেছেন।

পিসিপি চবি শাখার সভাপতি অন্বেষ চাকমার সভাপতিত্বে এবং তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ঋষণ চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবির, পিসিপি চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা এবং রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জাল্লাং এনরিকো কুবি।

বক্তব্যে রিবেক চাকমা বলেন, ভাষা আন্দোলনের সময় বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার আজও অবহেলিত। বাংলাদেশ শুধু বাঙালিদের নয়, মারমা, চাকমা, ম্রো ও মাহাতোসহ সব জাতিসত্তার।

বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বান্দরবানের ‘রেংমিটচ্য’ ভাষা আজ বিলুপ্তির পথে। তাই অবিলম্বে আদিবাসী শিশুদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

জাল্লাং এনরিকো কুবি বলেছেন, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকায় দেশের জাতিগত বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। বম সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিনা বিচারে আটক রাখা এবং মধুপুরে গারোদের জমি দখলের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি এসব জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অধিকার রক্ষায় উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের দাবি জানান।

অন্বেষ চাকমা খেদ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *