ঢাকা: জঙ্গিরা আসিতেছে তেড়ে। দেশকে ধীরে ধীরে আঁধারে ঢাকিতেছে। জঙ্গী, কট্টরপন্থীদের রাজত্বে কোনো গান বাজনা নয়, নাচ গান হারাম। নারী স্বাধীনতা বাতিল। নারী অধিকার নিষিদ্ধ। নারীর শিক্ষা-স্বনির্ভরতা হারাম।
দেখতে থাকেন কোথায় যায় দেশ! বাল্য বিবাহ তো ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, চার ভিডিও রাখছে কেউ কেউ। দেখবেন, হঠাৎ দেশে শুরু হয়ে গেছে পাথর ছুড়ে মেয়েদের হত্যা করার আইন!
দেশে তো মৌলবাদী, জামাত শিবিরের রাজত্ব চলছে। নামে বিএনপির সরকার, কাজে জামাত শিবির, সংস্কৃতিবিরোধীরা।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ওই গ্রামের মসজিদ কমিটি।
কেউ এইসব বাজালে তাদের সামাজিকভাবে বর্জন করা হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের কবরস্থানে দাফন করতেও দেওয়া হবে না।
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে গান বাজনা নিষিদ্ধ।এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জেও একই কাণ্ড ঘটেছে। যদিও এই ঘটনা নতুন না।
জামাত ও ইন্টেরিম শাসনামলে পরিকল্পিতভাবে শিল্প-সংস্কৃতির উপর এক ধরনের দমননীতি চালু হয়েছিল।এখন সেটা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে।
এভাবে চলতে থাকলে এই দেশ খুব দ্রুত আফগানিস্তানের মত অন্ধকার, সংকীর্ণ, সংস্কৃতিবিমুখ সমাজে পরিণত হবে। হচ্ছেও তাই, খুব বেশিদিন আর নেই।
পাকিস্তানের নামেই যেমন জঙ্গী ভেসে ওঠে, বাংলাদেশের অবস্থাও তেমন হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিচিত হচ্ছে এক অসহিষ্ণু, ধর্মান্ধ, সংস্কৃতিবিরোধী জনগোষ্ঠী হিসেবে।
বাঙ্গু মুমিনের দল দেশের শিল্প সংস্কৃতিকে খেয়ে বসে আছে।
শনিবার, ৪ এপ্রিল কুষ্টিয়ার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী প্রচার মাইকিং করে এই ঘোষণা দেয় বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি।
পরে দিনব্যাপী প্রচার মাইকের মাধ্যমে এলাকায় এ ঘোষণা জানিয়ে দেয় বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি।
মাইকে প্রচারের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে একটি ভ্যানে দুটি মাইকে প্রচার করা বার্তায় শুনতে পাওয়া যায়, ‘আজ থেকে মহল্লায় সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজানো নিষেধ। কোনো ব্যক্তি ভুল করিয়া জেনেশুনে সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজান, তাদেরকে মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হইবে। আদেশক্রমে মাজগ্রাম বড় মসজিদের কমিটিবৃন্দ।’
বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী জানান, ২৭ মার্চ, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন যে বড় মাজগ্রাম মহল্লার অধীনে কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স ও মাইক সেট বাজানো হলে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সব কার্যকলাপ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে।
মসজিদের উন্নয়নে তাদের থেকে কোনো সহায়তা নেওয়া হবে না। কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এককথায় সামাজিকভাবে তাদের বর্জন করা হবে।
