ঢাকা: এই বাংলাদেশে জুলাই আগস্টে জঙ্গী আন্দোলনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে পুলিশদের। এখন পুলিশ হত্যার তদন্ত হবে শুনে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিচ্ছে রাজপথে নামবে। নামুক রাজপথে। তবে পুলিশ হত্যার বিচার হতেই হবে- এটা জনগণের দাবি।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে জঙ্গীরা।

২০২৪-এ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের স্থাপনাগুলোয় ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছিল, ৪৪ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এটা কোনো সংখ্যাই না। সংখ্যাটা তিন হাজারের বেশি।

পুলিশ সদর দপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনার গভীরে গিয়ে এখন তদন্ত করা হবে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলামত থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকার সহযোগিতা না করায় তদন্ত ও মামলার বিষয়গুলো থমকে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘মামলা হলে অনেক রাঘববোয়াল ফেঁসে যেতে পারেন। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তদন্ত অবশ্যই হবে।’

তিনি জানান, কারাগার থেকে যেসব বন্দি পালিয়ে গেছে, তাদের ধরতে বিশেষ অভিযানও হতে পারে। তাদের ধরতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ছাত্র-জনতা হত্যাকান্ডে হওয়া মামলাগুলোরও দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। যারা এসবে সরাসরি যুক্ত ছিল, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।

বিভিন্ন সূত্র থেকে বেরিয়ে এসেছে, আন্দোলনে ৩১০৮ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের ভিতরে লুকিয়ে ছিলো শ্যুটার, স্নাইপার বাহিনী।

এদিকে, ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার আন্দোলনকারিদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না, এই মর্মে ইনডেমনিটি বিল পাশ করেছে।

জানা গিয়েছে,পুলিশ হত্যা মামলার তদন্ত ও আসামিদের বিষয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার বাইরে ও ভেতরে এবং আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু দুর্বৃত্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মধ্য দিয়েই ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সমাপ্তি ঘটেছিল।

কিন্তু তারপরেও দেখা গেছে বিভিন্ন থানায় হামলা, পুলিশ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সেসবের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম এ আজিজ।

এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনার জন্য সরকার যে দায়মুক্তি বা ইনডেমনিটি দিয়েছে, তাকে ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

দেশের সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

এম এ আজিজ অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট সরকারপতনের পর দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ থানায় অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে পুলিশ সদস্যদের। এসব ঘটনা সুস্পষ্ট ‘ফৌজদারি অপরাধ’।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *