ঢাকা: দেশে দারুণসব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে! জামাত-শিবির চক্র দেশ দেশ বলে চিৎকার করছে। আবার দেশপ্রেম কীভাবে হয় তাও শেখাচ্ছে। কী মনে হয় দেখে?

যে দেশকে তারা দল বেঁধে ধর্ষণ করেছে, লাখ লাখ মুক্তিসেনাকে হত্যা করেছে, পাক হানাদার বাহিনীর হাতে ধরে ধরে এদেশের মা-বোনকে তুলে দিয়েছে, যারা এদেশের স্বাধীনতাই চায়নি, সেই জামাত-শিবিরের কর্মী সমর্থকরা এখন সাচ্চা দেশপ্রেমিক বনে গিয়েছে।

দেশের জন্মকেই যারা মানেনা, চায়নি তারা দেশের দুঃখে কাঁদে! বাংলা ভাষার জন্য শহীদ হওয়া জব্বার, রফিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে?

আবার স্পর্ধা ভরে রাজাকার শফিকুর বলেন, বীর শহীদেরা নাকি তাদের সহযোদ্ধা!?? ভাষা সৈনিকদের নিজের দলে টানলেন নাকি নিজেদের যোদ্ধার জায়গায় তুললেন? এত নির্লজ্জ এরা।

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি লজ্জিত জামাতের কর্মকাণ্ডে।

এই প্রথমবারের মতো অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছায় জামায়াত আমিরের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এরপর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

এর আগে জামায়াতে ইসলামী দলের কাউকে কখনো ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে ফুল দেয়নি। দেবে কী করে? তারা কি বাংলা ভাষা চেয়েছে?

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামনে সেই প্রসঙ্গ তোলেন এক সাংবাদিক। তিনি জানতে চান এবার কেন সেই রীতি ভেঙে পুস্পস্তবক অর্পণ করলেন।

জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘এবার আমার এখানে আসা রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শহীদ মিনারে আসা আমার দায়িত্ব, আমাকে আমার সঙ্গীদের নিয়ে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।’

তারপর আবার প্রশ্ন, এখনো কী নাজায়েজ মনে করেন? তখন শফিকুর কাঁচুমাচু। বলেন, এই পবিত্র দিনে এই প্রশ্ন কেন?

চিন্তা করে দেখুন একবার এদের মিথ্যাচার আর ভণ্ডামি!

তিনি বলেন, ‘আমরা ৪৭ এর শহীদের স্মরণ করি, ৫২ এর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এবং ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করি। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদের স্মরণ করি। এরপর ফ্যাসিবাদীদের হাতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করি। সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ন্যায়ের অধিকারে লড়াই করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। শেষ পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদিকে আমরা স্মরণ করি।’

জাতিকে আজ এটাও দেখতে হলো।
ভাষা নিয়ে তামাশা করছে এরা। এই জাতি যেদিন এদের অভিনয় থেকে মুক্তি পাবে সেদিন সঠিক রাস্তায় দেশ পরিচালিত হবে।

সাদা শকুন নামে পরিচিত সাদা কাপড়ে তামাশা করতে গেছে শহীদ মিনারে, তার জানা উচিত ছিলো এখানে যেতে অন্তর থেকে ধারণ করে কেমন কাপড় পড়তে হয়।

এমন চরিত্র পৃথিবীর আর কোথাও আছে কি না জানা নেই।

যখন জামাত বুঝতে পারলো এদেশের মানুষ রাজাকারদের চায় না তখন তারা শহীদ মিনারে নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে গেলো।

এই অপশক্তিকে না রুখলে দেশ শেষ। এই শকুনেরা উর্দু ভাষার পক্ষে, পাকিস্তানের পক্ষে। ওরা ৭১ এ আমাদেরকে ধর্ষকদের হাতে তুলে দিয়েছিল, সেই ওরাই আমাদের ভাষা শহীদদের মেরেছিল।

আজ যদি ক্ষমতায় যেতো জামাত তখন এই একুশে ফেব্রুয়ারি এরাই বন্ধ করে দিতো শিরক ঘোষণা দিয়ে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *