ঢাকা: দেশের অবস্থা নাজুক যাকে বলে সেটাই হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের আদালত আর জনগণের নয়, সব দখলে চলে গেছে।
দোষীরা দিব্বি বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নির্দোষীর শাস্তি হয়। গত কয়েক মাসে দেশের বড় শহরগুলোতে ব্যবসায়ীদের ওপর চরম সন্ত্রাসী হুমকির ঘটনা বেড়েছে।
রাজধানীর পল্লবী অঞ্চলের এক ব্যবসায়ী সম্প্রতি এ ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তাঁকে ফোনে বা সরাসরি জানায়, “তুই বড় ব্যবসায়ী। পাঁচ কোটি টাকা দিবি আমাদের, নইলে মাইরা ফালামু। বাঁচবে না তোর পরিবার।” চাহিদা মতো টাকা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ীর পায়ে গুলি চালায়।
এখানেই শেষ নয়, সারা দেশ দুর্নীতিতে ভরেছে। আর যিনি দেশটাকে উন্নতির শিখরে নিয়েছেন, সাজা হচ্ছে তাঁদের।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন বলে জানান পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার ও কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার এবং সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, তন্ময় দাস, নুরুল ইসলাম এবং কবির আল আসাদ এবং সাবেক উপ-পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান সবুজ এবং মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
এই মামলাসহ আরও দুই মামলায় আজ আদালত শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
আজ ঘোষিত এই রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক।
রায় দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে।
শেখ হাসিনার আইনজীবীরা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই অবাস্তব রায়কে ‘নজিরবিহীন’, ‘প্রতিহিংসামূলক’ এবং ‘আইনের শাসনের নামে প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন।
এখন প্রশ্ন— ৪ হাজার ৪৬৭ কাঠা জমি দখলের নীরবতায় কী হবে?
বিষয় হচ্ছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পূর্বাচল, উত্তরা ও চট্টগ্রামে মোট ৪ হাজার ৪৬৭ কাঠা জমি বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে।
তাহলে এর সাজা কত বছর?
