ঢাকা: দেশে ধর্ষণের ঘটনা কমছে না। ঘর থেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হচ্ছে।
পাবনায় ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:
“বাঙ্গুরা ধর্ষণ করার পর হত্যাটা কেন করে? পাকিস্তানি বর্বর আর্মিরাও তো ধর্ষণ করার পর হত্যা করেনি মেয়েদের! এদের পাকিস্তানি বীজ বলতেও বাধে আমার।
এই আপদগুলো বেঁচে থেকে কার কী উপকার করছে? এরা বাকি জীবন বন্দি থাকুক, নয়তো আত্মহত্যা করুক। পৃথিবীর বহু ধর্ষক-খুনী নিজ দায়িত্বে আত্মহত্যা করে। বাঙ্গুরাও করুক”।
উল্লেখযোগ্য যে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার মূল কারিগর নিহতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় শরিফুল ইসলাম (২৮)।
রোববার দুপুরে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘাতক শরিফুল নিহত স্কুলছাত্রী জামিলার আপন কাকা (বাবার খালাতো ভাই) এবং নিহত বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনের আপন বোনের ছেলে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক শরিফুল স্বীকার করেছে যে, সে একাই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে এই ধর্ষক প্রাচীর টপকে বাড়িতে প্রবেশ করে।
বাড়িতে তখন কোরআনের হাফেজা ও নবম শ্রেণির ছাত্রী জামিলা আক্তার (১৫) এবং তার বৃদ্ধা দাদি সুফিয়া খাতুন (৭০) ঘুমিয়ে ছিলেন।
প্রথমে শরিফুল বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনকে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। তার রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির উঠানে ফেলে রাখা হয়।
এরপর সে ঘুমন্ত জামিলাকে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী একটি নির্জন সরিষা ক্ষেতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে এবং বাঁশের খুঁটি ও রড দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
শরিফুল ইসলামের জবানবন্দি ও উদ্ধার করা আলামতের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
